‘ফিরতে পারে চরম দারিদ্র্য, এই দশক বিপর্যয়ের’, সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা, একের পর এক ভূ-রাজনৈতিক যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে চলা তীব্র জ্বালানি সংকটের জেরে গোটা পৃথিবী আজ এক অভূতপূর্ব ও ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। এই সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে এবার ইউরোপের মাটি থেকে বিশ্ববাসীকে এক চরম সতর্কবার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নেদারল্যান্ডস সফরে গিয়ে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি যদি দ্রুত না বদলায়, তবে বিগত কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণের সমস্ত বড় বড় সাফল্য ও পরিশ্রম এক নিমেষেই ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যেতে পারে।
চলতি দশককে ‘বিপর্যয়ের দশক’ আখ্যা প্রধানমন্ত্রীর
নেদারল্যান্ডসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির টালমাটাল রূপটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিগত কয়েক বছরে যেভাবে একের পর এক আন্তর্জাতিক সংকট আছড়ে পড়েছে, সেই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে চলতি সময়কাল বা দশককে তিনি সরাসরি ‘বিপর্যয়ের দশক’ (Decade of Disasters) বলে অভিহিত করেছেন।
বিগত কয়েক দশকের সাফল্য ধুয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তৃতায় স্পষ্ট করেন যে, উন্নয়নশীল ও অনগ্রসর দেশগুলি বহু বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে কোটি কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যসীমার ওপর তুলে এনেছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে যেভাবে সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে, তাতে ফের সেই অন্ধকার দিনগুলি ফিরে আসার উপক্রম হয়েছে। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
- বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যবৃদ্ধি রুখতে সমস্ত দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে।
- জ্বালানি সংকট মেটাতে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব শক্তির ওপর জোর দেওয়া জরুরি।
- যুদ্ধ বা ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে যেন সাধারণ মানুষের রুটি-রুজিতে টান না পড়ে, তা সুনিশ্চিত করার সময় এসেছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই হাইপ্রোফাইল সতর্কবার্তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির ওপর এই বিশ্বজোড়া সংকটের প্রভাব যে সবচেয়ে মারাত্মক হতে চলেছে, তা নেদারল্যান্ডসের মাটি থেকে স্পষ্ট করে দিয়ে মোদী বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এক নতুন গ্লোবাল রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।