‘হে বীর, তোমাকে আমরা মিস করছি, একটু তো এসো’, নাম না করে অভিষেককে তীব্র কটাক্ষ শমীকের

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তৃণমূলের অন্দরের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ এবং লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়া শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে এবার সরাসরি বেনজির রসাত্মক আক্রমণে নামল বিজেপি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে তীব্র ব্যঙ্গ করলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবারের এই সভায় শমীকের চেনা রাজনৈতিক শ্লেষ এবং রসাত্মক অঙ্গভঙ্গি উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাসির রোল তোলে।
৪ তারিখের পর ডিজে বনাম হারমোনিয়াম
নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চড়া সুরের রাজনৈতিক আক্রমণের জবাবে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন যে, ৪ তারিখ রাত বারোটার পর ফলতা ও ডায়মন্ড হারবারে ডিজে বাজিয়ে উৎসব হবে। সেই মন্তব্যকে মনে করিয়ে দিয়েই শমীক ভট্টাচার্য এদিন মঞ্চ থেকে বলেন:
“এখানকার নেতা অমিত শাহকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ৪ তারিখ রাত বারোটার পর ডিজে বাজাবেন বলে। এখন তিনি কোথায়? এখন ডিজের বদলে ফলতা থেকে ডায়মন্ড হারবার—সমস্ত তৃণমূল নেতাদের ঘরে ঘরে বিষাদের হারমোনিয়াম বাজছে।”
খোঁচা দিয়ে ডায়মন্ড হারবারে ‘মিস’ করার বার্তা
মে মাসে তৃণমূলের এই ভরাডুবি এবং সরকার হাতছাড়া হওয়ার পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা জনসমক্ষে উপস্থিতি অনেকটাই কমে গিয়েছে। কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হাল ধরলেও অভিষেকের এই ‘নীরবতা’ বা ব্যাকফুটে চলে যাওয়াকে হাতিয়ার করেই এদিন আক্রমণ শানিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি।
বিজেপি সভাপতি সরাসরি খোঁচা দিয়ে বলেন:
- নেতার খোঁজ মিলছে না: নির্বাচনী ময়দানে যিনি রোজ নতুন নতুন মডেল আর চ্যালেঞ্জ ছুড়তেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর এই কঠিন সময়ে তাঁর দেখা মিলছে না।
- মঞ্চ থেকে ব্যাঙ্গাত্মক আহ্বান: শমীক ভট্টাচার্য হাসতে হাসতে বলেন, “হে বীর, তোমাকে আমরা মিস করছি, তুমি এসো। এরকম করে না, একটু তো এসো। এসে দেখে যাও তোমার তৈরি করা মডেলের আজ কী দশা হয়েছে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বিজেপি এখন তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা অর্থাৎ দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্দরে নিজেদের রাজনৈতিক জমি আরও শক্ত করতে চাইছে। আর সেই কারণেই দলের প্রধান সেনাপতিকে এভাবে সরাসরি কটাক্ষ ও মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলার এই কৌশল নিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। ফলতার এই সভা থেকে স্পষ্ট যে, ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল নেতৃত্ব যেখানে ঘর গোছাতে ব্যস্ত, সেখানে বিজেপি তাঁদের খাসতালুকে ঢুকে আক্রমণের ধার আরও বাড়াচ্ছে।