‘উখাড়কে ফেক দেঙ্গে’ হুমকির দিন শেষ, ফিরহাদকে পুরনো ক্ষোভ মনে করিয়ে তীব্র আক্রমণ বৈশাখীর

‘উখাড়কে ফেক দেঙ্গে’ হুমকির দিন শেষ, ফিরহাদকে পুরনো ক্ষোভ মনে করিয়ে তীব্র আক্রমণ বৈশাখীর

রাজ্যে ক্ষমতার ঐতিহাসিক পালাবদলের পর তৃণমূলের প্রথম সারির হেভিওয়েট নেতাদের লক্ষ্য করে এবার পুরনো হিসেব-নিকেশ ও রাজনৈতিক ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করলেন একদা তাঁদেরই বিরোধী শিবিরের চেনা মুখেরা। এবার কলকাতার মেয়র তথা তৃণমূলের দাপুটে নেতা ফিরহাদ (ববি) হাকিমকে সরাসরি তীব্র ভাষায় নিশানা করলেন মিল্লি আল আমিন কলেজের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে বাম জমানার অবসান এবং তৃণমূলের উত্থানের পর বৈশাখী ও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের সংঘাত রাজ্য রাজনীতিতে একসময় প্রবল আলোড়ন তৈরি করেছিল। মে মাসে তৃণমূলের এই নজিরবিহীন ভরাডুবির পর সেই পুরনো সংঘাতের ইতিহাস টেনেই মেয়রকে রাজৈনতিক খোঁচা দিলেন তিনি।

হুমকির জবাবে জনতার রায়কে হাতিয়ার

অতীতে কলকাতার মিল্লি আল আমিন কলেজের পরিচালন সমিতিকে কেন্দ্র করে যখন চরম টানাপড়েন চলছিল, তখন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদ থেকে সরানোর বিষয়ে ফিরহাদ হাকিমের কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক রাজভবন পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সেই সময়কার এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন:

“যে ফিরহাদ হাকিম একদিন ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে আমাকে সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন, কলেজ থেকে ‘উখাড়কে ফেক দেঙ্গে’ (উপড়ে ফেলে দেব) বলে হুঙ্কার ছেড়েছিলেন, আজ সময় বদলে গিয়েছে। প্রকৃতির কী অদ্ভুত নিয়ম দেখুন, আজ তাঁর সেই অহঙ্কারী দলটাকেই বাংলার মানুষ বহু জায়গায় বুথ থেকে ইভিএম—সব স্তরে উপড়ে ফেলে দিয়েছে।”

ক্ষমতার দম্ভ বনাম রাজনৈতিক পতন

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিগত বছরগুলিতে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের নেতারা সাধারণ মানুষ এবং চাকুরিজীবীদের ওপর যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছেন, মে মাসের নির্বাচনী ফলাফল আসলে তারই এক যোগ্য জবাব।

মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে উদ্দেশ্য করে তাঁর আরও সংযোজন:

  • ব্যক্তিগত আক্রোশের অবসান: রাজনীতির ময়দানে বা প্রশাসনিক স্তরে কাউকে উপড়ে ফেলার হুমকি দেওয়া যে কতটা হঠকারী সিদ্ধান্ত হতে পারে, তা তৃণমূল নেতৃত্ব আজ হারে হারে টের পাচ্ছে।
  • জনগণের ‘বুলডোজার’: শাসক দল যেভাবে বেআইনি তকমা দিয়ে মানুষের ঘরবাড়িতে বুলডোজার চালাচ্ছে বা অতীতে বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছে, এবার বাংলার সাধারণ ভোটাররাই ব্যালটের মাধ্যমে তৃণমূলের সেই দম্ভের ওপর রাজনৈতিক বুলডোজার চালিয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর শুভেন্দু অধিকারীর হাত শক্ত হওয়ার পাশাপাশি, বিগত দিনে তৃণমূলের হাতে কোণঠাসা হওয়া ব্যক্তিবর্গও এখন মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে মেয়াদের শেষলগ্নে থাকা পুর-প্রশাসন ও তৃণমূল নেতাদের ওপর চাপ বাড়াতে ময়দানে নামছেন। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘উখাড়কে ফেক দেঙ্গে’ সংক্রান্ত পাল্টা তোপ কলকাতার পুর-রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *