‘শুভেন্দুকে হারাতে নন্দীগ্রামে ১০০ কোটি খরচ করেছে তৃণমূল’, এইউজেপি প্রার্থীর বিস্ফোরক ভিডিও ভাইরাল করল বিজেপি

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর নন্দীগ্রামের হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক লড়াই নিয়ে এবার সামনে এলো এক চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পরাজিত করতে তৃণমূল কংগ্রেস নাকি জল বা তেলের মতো টাকা ঢেলেছে! তাও আবার দু-এক কোটি নয়, পুরো ১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে বলে এক বিস্ফোরক দাবি সামনে এসেছে। নন্দীগ্রামের অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (AIUDF) তথা ‘অল ইউনাইটেড জাস্টিস পার্টি’ (AUJP)-র প্রার্থী শহিদুল হকের এই সংক্রান্ত একটি বিস্ফোরক ভিডিও সাক্ষাৎকার এবার সমাজমাধ্যমে ভাইরাল করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল পদ্মশিবির।
ভোটপিছু ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বিলির গুরুতর অভিযোগ
বিজেপির আইটি সেলের পক্ষ থেকে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেছে ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম Way2News) এআইউডিএফ বা এইউজেপি প্রার্থী শহিদুল হককে ক্যামেরার সামনে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলের হাঁড়ি হাটে ভেঙে দিতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে শহিদুল হক দাবি করেছেন:
- টাকার পাহাড়: নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীকে যেকোনো মূল্যে হারাতে এবং দলের রাজনৈতিক সম্মান রক্ষা করতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রায় ১০০ কোটি টাকার এক বিশাল গোপন ফান্ড তৈরি করেছিল।
- ভোটারদের ঘুষ: নির্বাচনের ঠিক আগে নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকার ভোটারদের প্রভাবিত করতে বুথ স্তরে এক অভূতপূর্ব আর্থিক লেনদেন চলেছে। শহিদুলের অভিযোগ, সাধারণ ভোটারদের ভোট কিনতে মাথা পিছু বা ভোট পিছু ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ ক্যাশ বিলি করেছে শাসক দল।
ইডি-সিবিআই তদন্ত হলে জেলে যাবেন অভিষেক ব্যানার্জি!
এই ভিডিওতে কেবল টাকা বিলির অভিযোগই নয়, সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে এক ভয়ঙ্কর দাবি করেছেন প্রার্থী শহিদুল হক। তাঁর সাফ কথা, নন্দীগ্রামের এই নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং কোটি কোটি টাকার উৎস কী, তা জানতে যদি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং সিবিআই (CBI) স্বতঃস্ফূর্তভাবে তদন্তে নামে, তবে খুব শীঘ্রই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রীঘরে বা জেলে যেতে হবে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, এই পুরো টাকার লেনদেনের মাস্টারপ্ল্যান খোদ শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই কার্যকর করা হয়েছিল।
জনতার ইভিএম ‘নোট’ নয় ‘ভোট’ চিনেছে, কটাক্ষ বিজেপির
এই ভিডিওটি সামনে আসতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁরা অভিযোগ করছিলেন যে তৃণমূল বাংলায় ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির কালো টাকা ছড়াচ্ছে। কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষ যে বিন্দুমাত্র বিক্রি হননি এবং টাকা নিয়েও যে তাঁরা ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারীকেই হ্যাটট্রিক জয় এনে দিয়েছেন, মে মাসের ফলাফলই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
অন্যদিকে, এই ভিডিওকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো, সাজানো এবং স্ক্রিপ্টেড’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর অনৈতিক জয় এবং প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব আড়াল করতেই বিজেপি এখন অন্য দলের প্রার্থীকে দিয়ে মুখ খাটিয়ে এই মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তবে টিবি৯ বাংলা (TV9 Bangla) এবং সোশ্যালে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওর জেরে নন্দীগ্রামের ভোট-রাজনীতি এবং দুর্নীতি বিতর্ক যে এক নতুন মাত্রা পেল, তা বলাই বাহুল্য।