শুরু হলো জনগণনার পরবর্তী ধাপ

করোনা মহামারীসহ নানাবিধ কারণে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকার পর অবশেষে দেশজুড়ে গতি পেল ভারতের পরবর্তী ডিজিটাল জনগণনা (Census) প্রক্রিয়া। রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, মেঘালয় এবং দিল্লি পুরসভা এলাকা-সহ দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হয়ে গেল জনগণনার পরবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপের কাজ। এবারের জনগণনায় সনাতনী কাগজের ফর্মের বদলে সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং প্রযুক্তি-নির্ভর পদ্ধতিকে হাতিয়ার করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
অ্যাপের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জনগণনা দফতরের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
- মোবাইল অ্যাপের ব্যবহার: কর্মীদের কাছে থাকা একটি বিশেষ এবং সুরক্ষিত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের (App) মাধ্যমে এই পুরো তথ্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
- মূল আলোচ্য বিষয়: এই ধাপে মূলত সংশ্লিষ্ট পরিবারের সম্পত্তি, জীবনযাত্রার মান এবং বাড়ির বর্তমান অবস্থা (Housing Condition) সংক্রান্ত একাধিক নির্দিষ্ট ও ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নাগরিকদের জন্য সেলফ-এন্যুমারেশন বা অনলাইনের সুবিধা
ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ার লক্ষ্যে এবারের জনগণনায় আমজনতার সুবিধার্থে একটি বড়সড় স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে কেন্দ্র। তথ্য সংগ্রহের জন্য কর্মীদের দীর্ঘ অপেক্ষা না করে নাগরিকেরা চাইলে নিজেরাই অনলাইনে (Self-Enumeration Portal) লগ-ইন করে তাঁদের পরিবারের যাবতীয় সঠিক তথ্য সরাসরি সরকারি পোর্টালে জমা দিতে পারছেন।
রবিবার থেকে আরও চার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নতুন প্রক্রিয়া
জনগণনা প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও কিছু অঞ্চলে এই অনলাইন ও অ্যাপ-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, রবিবার থেকে এই বিশেষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন—
- গুজরাত
- জম্মু-কাশ্মীর
- লাদাখ
- পুদুচেরি
ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের ফলে এবারের জনগণনার চূড়ান্ত রিপোর্ট অনেক দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন আধিকারিকেরা। নাগরিকেরা যাতে কোনো রকম ভুয়ো লিঙ্কের ফাঁদে না পড়ে একমাত্র সরকারি পোর্টালে বা বাড়িতে আসা বৈধ পরিচয়পত্রধারী সরকারি কর্মীর কাছেই তথ্য দেন, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে।