‘দলে শুধু একজন পার্থ নন, আরও অনেক বিশ্বাস, অনেক হাকিমরা রয়েছেন’, তৃণমূল নেতাদের ধুয়ে দিলেন বৈশাখী

‘দলে শুধু একজন পার্থ নন, আরও অনেক বিশ্বাস, অনেক হাকিমরা রয়েছেন’, তৃণমূল নেতাদের ধুয়ে দিলেন বৈশাখী

বাংলায় ক্ষমতার পটপরিবর্তন ও তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কোণঠাসা করছেন মিল্লি আল আমিন কলেজের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ‘উখাড়কে ফেক দেঙ্গে’ হুমকির কথা মনে করিয়ে দেওয়ার পর, এবার সরাসরি তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম ও পদবী তুলে তাঁদের ‘পৈশাচিক চেহারা’ নিয়ে তীব্র ও ঝাঁঝালো আক্রমণ শানালেন তিনি। কারও নাম গোপন রেখে, আবার কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন যে, তৃণমূলের এই পতন আসলে নেতাদের চরম অহংকার, দম্ভ ও লাগামহীন দুর্নীতিরই অনিবার্য পরিণতি।

শুধু একজন পার্থ চট্টোপাধ্যায় নন, তালিকায় আরও অনেকে

রাজ্যে বিগত জমানায় নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি তৃণমূলের জন্য ছিল সবচেয়ে বড় ধাক্কা। সেই প্রসঙ্গ টেনে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দুর্নীতি বা ক্ষমতার দম্ভ কেবল একজন নেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দলীয় নেতাদের আক্রমণ করতে গিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন:

“তৃণমূলের ভেতরের লোকজন ভাবছেন শুধু একজন পার্থ চট্টোপাধ্যায় চলে গেলেই দল পবিত্র হয়ে গেছে? দলের মধ্যে কি আর কোনো পার্থ নেই? একটু ভালো করে চারদিকে তাকিয়ে দেখুন, এই দলের মধ্যে এখনও অনেক চট্টোপাধ্যায়, অনেক বিশ্বাস, আর অনেক হাকিমরা বসে রয়েছেন। ক্ষমতার চেয়ারে বসে গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের ওপর এঁরা যে চরম অত্যাচার চালিয়েছেন, সেই পৈশাচিক চেহারাটা বাংলার মানুষ খুব ভালো করেই চিনে নিয়েছেন।”

নাম ও পদবীর তিরে বিদ্ধ ফিরহাদ থেকে ফিরোজ

রাজনৈতিক মহলের মতে, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এই মন্তব্যে অত্যন্ত সুকৌশলে এবং সরাসরি তৃণমূলের তিন হেভিওয়েট শিবিরের দিকে আঙুল তুলেছেন:

  • হাকিম (ফিরহাদ হাকিম): কলকাতার মেয়র ফিরহাদ ববি হাকিমের সঙ্গে বৈশাখী ও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সংঘাত সর্বজনবিদিত। তাঁকেই মূলত ‘হাকিম’ সম্বোধন করে ক্ষমতার দম্ভের জবাব দিয়েছেন বৈশাখী।
  • বিশ্বাস (অরূপ বিশ্বাস/অন্যান্য): দলের অন্যতম শীর্ষ চালিকাশক্তি ও উত্তর ২৪ পরগনা থেকে শুরু করে কলকাতার সংগঠনে থাকা ‘বিশ্বাস’ পদবীধারী প্রভাবশালী মন্ত্রীদের দিকেও তাঁর তিরের নিশানা ছিল স্পষ্ট।
  • চট্টোপাধ্যায় (পার্থ/অন্যান্য): পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সমগোত্রীয় আরও যেসব ‘চট্টোপাধ্যায়’ এখনও দলের অন্দরে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, তাঁদেরও রেয়াত করেননি তিনি।

জনগণের আদালতেই অহংকারের পতন

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের নেতারা এখন যতই কালীঘাটে বৈঠক করে ড্যামেজ কন্ট্রোল বা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন না কেন, আদতে সাধারণ মানুষ আর তাঁদের বিশ্বাস করছেন না। গরিবের টাকা লুঠ করা এবং ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে সাধারণ নাগরিকদের ক্রীতদাস ভাবার যে ‘কালচার’ বা সংস্কৃতি তৃণমূলের নেতারা তৈরি করেছিলেন, ব্যালট বক্সে মানুষ তার যোগ্য জবাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। রাজ্যে নতুন সরকারের জমানায় এই সমস্ত ‘অহংকারী’ নেতাদের দুর্নীতি ও অপকর্মের খতিয়ান আরও বেশি করে সামনে আসবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই লাগাতার ও চাঁছাছোলা আক্রমণ এই মুহূর্তে কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দে এক নতুন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *