পার্ক সার্কাস অশান্তিতে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, জালে মূল প্ররোচনাকারী ফরিদুল

কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। অশান্তি ও আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরেই অ্যাকশনে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে ঘটনার মূল অভিযুক্ত ফরিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নিয়ে পার্ক সার্কাসের ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে।
সমাজমাধ্যমে উসকানি ও রণক্ষেত্র পার্ক সার্কাস
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, রবিবার পার্ক সার্কাস চত্বরে যে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়েছিল, তার নেপথ্যে মূল প্ররোচনাকারী হিসেবে কাজ করেছে ফরিদুল ইসলাম। অভিযোগ, ফরিদুল সমাজমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট করে বহু মানুষকে নির্দিষ্ট একটি স্থানে জড়ো হওয়ার উসকানি দিয়েছিল। তার সেই পোস্টের জেরেই রবিবার দুপুরে বুলডোজার অ্যাকশনসহ একাধিক ইস্যুর বিরোধিতায় একদল বিক্ষোভকারী পার্ক সার্কাসে জড়ো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইট ও পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। ভাঙচুর চালানো হয় সরকারি ও আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িতে। বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে অন্তত ৩ জন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হন।
প্রশাসনের কড়া মনোভাব ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
সোমবার কলকাতার ডিসি অফিসে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, পুলিশের গায়ে হাত দিলে বা আইন নিজের হাতে তুলে নিলে প্রশাসন কোনোভাবেই তা বরদাস্ত করবে না। কাশ্মীরের পাথর ছোঁড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন যে, রাজ্যে এই ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপের দিন শেষ। মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর নির্দেশের পর পুলিশি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল অভিযুক্ত ফরিদুলকে জেরা করে এই ঘটনার পেছনে আর কোনো বড় চক্রান্ত বা অন্য কারও মদত রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে রাজ্যে যেকোনো ধরণের উসকানিমূলক জমায়েত এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টায় বড়সড় ধাক্কা লাগবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।