আরজি কর কাণ্ডে এবার হাইকোর্টে পাড়ার ‘কাকু’, গ্রেফতারি এড়াতে মরিয়া সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়

আরজি কর কাণ্ডে এবার হাইকোর্টে পাড়ার ‘কাকু’, গ্রেফতারি এড়াতে মরিয়া সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নারকীয় ঘটনার জল এবার গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। মামলায় প্রমাণ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং গ্রেফতারি এড়াতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিযুক্ত সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। তাঁকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে এই দাবি তুলে আইনি নিষ্কৃতির আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে নির্যাতিতার বিধায়ক মায়ের আবেদনের ভিত্তিতে শিয়ালদহ আদালতে মামলার পরিধি বাড়তেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন অভিযুক্ত।

শ্মশানের সই ও প্রভাবশালী যোগসূত্র

তদন্তে প্রকাশ, ঘটনার দিন নির্যাতিতার পরিবারকে অন্ধকারে রেখে তড়িঘড়ি দেহ শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ করার নেপথ্যে স্থানীয় তিন নেতার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এই তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং জলহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-র পাশাপাশি নাম জড়ায় সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের। স্থানীয় স্তরে ‘কাকু’ নামে পরিচিত সঞ্জীব আদতে মৃত তরুণী চিকিৎসকের পাড়ারই বাসিন্দা। অভিযোগ, জলহাটি শ্মশানঘাটে যখন তড়িঘড়ি দেহ দাহ করা হয়, তখন শ্মশানের অফিশিয়াল নথিতে এই সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়েরই সই ছিল। বাম আমলের প্রাক্তন এই কাউন্সিলর ২০১৯ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে নির্মল ঘোষের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে জায়গা করে নেন।

আইনি লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব

নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, মূল তথ্যপ্রমাণ পরিকল্পিতভাবে লোপাট এবং সত্য ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রভাবশালীরা কাজ করেছিলেন। এই অভিযোগে শিয়ালদহ আদালতে অভিযুক্তদের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দাবি উঠতেই সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সম্পূর্ণ নির্দোষ এক ব্যক্তিকে এই মামলায় জড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে আদালত সঞ্জীবকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে। হাইকোর্টের এই নতুন আইনি পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত ও রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *