৪০ ডিগ্রির পারদে হাঁসফাঁস দক্ষিণবঙ্গ, চাতক পাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষায় মানুষ!

৪০ ডিগ্রির পারদে হাঁসফাঁস দক্ষিণবঙ্গ, চাতক পাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষায় মানুষ!

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে গোটা দক্ষিণবঙ্গ। রাঢ় বঙ্গের জেলাগুলোতে গরমের তীব্রতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলার তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছুঁয়েছে, কোথাও আবার তা ছাড়িয়ে গেছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নিরিখে কলাইকুন্ডা শীর্ষে রয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এই মুহূর্তে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৬৮ থেকে ৮২ শতাংশ হওয়ায় গরমের সাথে তীব্র ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কলকাতায় সাময়িক স্বস্তির ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তরবঙ্গের আর্দ্র আবহাওয়া

এই চরম অস্বস্তির মাঝেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী গাঙ্গেয় উপত্যকায় আজ বজ্রবিদ্যুৎ-সহ সাময়িক ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। সেই সাথে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তবে এই স্বস্তি স্থায়ী হবে না, কারণ আগামীকাল থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও নতুন করে আর ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গের বর্ধমান, দুই ২৪ পরগনা, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সামগ্রিক গরম থেকে এখনই মুক্তি মিলছে না। বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তুলনামূলক স্বস্তি থাকলেও পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

মৌসুমী বায়ুর আগমন ও বঙ্গে বর্ষার বিলম্ব

আবহাওয়াবিদদের মতে, রাজ্যে এই মুহূর্তে বিরাজমান তীব্র ভ্যাপসা গরমের মূল কারণ হলো দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের বিলম্ব। যদিও মৌসুমী বায়ু ইতোমধ্যে আন্দামান সাগর, দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগর, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করে মূল ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তাও পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা আসতে এখনও বেশ কিছুটা সময় বাকি। সাধারণত ৮ জুনের পর রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা প্রবেশ করে। আবহাওয়া দপ্তর এখনও বঙ্গে বর্ষার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা না করায় আপাতত এই অস্বস্তিকর ও গরম আবহাওয়া বজায় থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *