মেসিকাণ্ডে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১০০ কোটির মামলা, বিধাননগর থানায় এফআইআর শতদ্রুর

কলকাতায় লিয়োনেল মেসিকে আনার নাম করে বিপুল অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠল রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। বিধাননগর থানায় এই মেসিকাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন বিখ্যাত ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি এবং ক্রীড়ামহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগের তির শুধু প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর দিকেই নয়, এর সাথে জড়িয়ে গিয়েছে রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম।
শতদ্রু দত্তের দায়ের করা এই অভিযোগে তৃণমূল নেত্রী জুঁই বিশ্বাস, রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার এবং আইএএস শান্তনু বসুর নামও রয়েছে। অভিযোগকারী শতদ্রু দত্তের দাবি, এই মেসিকাণ্ডের পেছনে রয়েছে প্রায় একশো কোটি টাকার এক বিশাল আর্থিক দুর্নীতি, যার জাল অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
শতদ্রুর মারাত্মক অভিযোগ ও তদন্তের মোড়
ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত বিধাননগর থানায় লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন যে, কলকাতায় লিয়োনেল মেসিকে নিয়ে আসার বিষয়টি সামনে রেখে কোটি কোটি টাকার নয়ছয় করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজের পদের অপব্যবহার করে বিপুল আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়াকে আড়াল করার চেষ্টায় শামিল ছিলেন তৎকালীন উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক ও পুলিশ কর্তারা। ১০০ কোটি টাকার এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
ক্রীড়ামহল ও রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই হাইপ্রোফাইল মামলার জেরে রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্র এবং রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ঝাঁকুনি লাগতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক স্তরের একজন ফুটবল তারকাকে কলকাতায় আনার নামে এই ধরণের শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আন্তর্জাতিক মঞ্চে কলকাতার ক্রীড়া ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করতে পারে। অন্যদিকে, শাসকদলের হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী এবং প্রাক্তন পুলিশ প্রধানের নাম জড়ানোয় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এটিকে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পেয়ে গেল। আগামী দিনে এই তদন্তের জল কতদূর গড়ায় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।