ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীর পিছু হঠার পরই বড় চাল, ঘাসফুল শিবিরের ভোট চাইলেন শুভঙ্কর সরকার

ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের ঠিক মুখে আকস্মিক এক নাটকীয় মোড় রাজ্য রাজনীতিতে। শেষ মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়াতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে কংগ্রেস। এই রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে খোদ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তৃণমূলের সৎ কর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে হাত চিহ্নে ভোট দেওয়ার সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল প্রার্থীর এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত ফলতার ভোটের লড়াইকে এক ধাক্কায় বদলে দিয়েছে।
তৃণমূলের ভোটব্যাংকে কংগ্রেসের নজর
জাহাঙ্গীর খানের সরে দাঁড়ানোর খবর প্রকাশ্যে আসতেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ভোটারদের উদ্দেশ্যে একটি বড় আর্জি পেশ করেন। ফলতার মা-ভাই-বোনদের পাশাপাশি তৃণমূলের সৎ কর্মী-সমর্থকদের কাছেও আগামী ২১ মে-র নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লাকে ভোট দিয়ে জয়ী করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। শুভঙ্কর সরকারের দাবি, বিজেপিকে একমাত্র কংগ্রেসই রুখতে পারে। শাসকদলের ভোটারদের নিজেদের দিকে টেনে এনে ফলতায় বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কংগ্রেসকে তুলে ধরাই এখন প্রদেশ নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
শুভঙ্কর সরকারের এই কৌশলগত পদক্ষেপের পেছনে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বিজেপির মোকাবিলা তৃণমূলকে দিয়ে সম্ভব নয় এবং বিজেপির সঙ্গে লড়াই করে তাদের হারানোর ক্ষমতা শুধু কংগ্রেসেরই রয়েছে। তৃণমূল প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর কারণে বিরোধী ভোট যাতে একতরফাভাবে বিজেপির ঝুলিতে না চলে যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই মরিয়া চেষ্টা। এই আহবানের ফলে ফলতার সাধারণ তৃণমূল কর্মী ও ভোটারদের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ঝুঁকে পড়ে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী ২১ মে-র নির্বাচনের ভাগ্য। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ ভোট ব্যাংক এককাট্টা করার একটি নতুন লড়াই শুরু হলো বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।