অভিষেকের সম্পত্তি বিতর্ক, পুরসভার নোটিশ নিয়ে মুখ খুললেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর বাবা-মা এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সম্পত্তির বৈধতা যাচাই করতে নোটিশ পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অবশেষে মুখ খুলেছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের প্রবীণ তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তবে তাঁর বক্তব্যে এক প্রকার দায় এড়ানোর সুর লক্ষ্য করা গেছে, যা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
মেয়রের প্রতিক্রিয়া ও পুরসভার আইনি অবস্থান
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি ইস্যুতে তাঁকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি বলে স্পষ্ট দাবি করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ কী সিদ্ধান্ত নেবে কিংবা কোন বেআইনি বাড়ি ভাঙা হবে, তা সরাসরি মেয়র নির্ধারণ করেন না। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, পুরসভার কমিশনার পদাধিকার বলে এই ধরনের আইনি ও নির্বাহী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী। মেয়রের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এগোচ্ছে এবং এর সাথে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সরাসরি কোনো সংযোগ নেই।
তদন্তের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আদালতের নির্দেশ এবং বিভিন্ন মামলার প্রেক্ষিতেই কলকাতা পুরসভা এই আইনি পদক্ষেপ বা নোটিশ পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারিবারিক সংস্থার সম্পত্তির নথিপত্র খতিয়ে দেখার এই প্রক্রিয়া আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ হলেও, শাসক দলের অন্দরে এর একটি পরোক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফিরহাদ হাকিমের মতো শীর্ষনেতার ‘কিছু না জানার’ এই মন্তব্য একদিকে যেমন পুরসভার নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে তা দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এই নোটিশের পর আগামী দিনে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সম্পত্তি নিয়ে পুরসভা কী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।