ভোটের মুখে ফলতায় জোর ধাক্কা তৃণমূলের, জাহাঙ্গিরের সরে দাঁড়ানো নিয়ে কটাক্ষ শুভেন্দুর

নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে এক নাটকীয় মোড় দেখল ফলতার রাজনীতি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাইভোল্টেজ ফলতা কেন্দ্রের ভোটযুদ্ধ থেকে আচমকাই পিছু হঠলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি শুধু ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাই জানাননি, সেই সঙ্গে সক্রিয় রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার ঘোষণাও করেছেন। ভোটের ঠিক আগে তৃণমূল প্রার্থীর এমন আকস্মিক অন্তর্ধানে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরকে তীব্র আক্রমণ শাণিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ফলতায় এক বিশাল রোড শো-র মাধ্যমে শক্তিপ্রদর্শন করে তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একহাত নেন।
পুষ্পাকে গাছে তুলে ভাইপো উধাও
জাহাঙ্গির খানের এই সরে দাঁড়ানোকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে আক্রমণ করেন। নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে পরিচিত করা জাহাঙ্গিরের প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ছবিতে পুষ্পা বলেছিল সে কারও কাছে ঝুঁকবে না, কিন্তু এখানে ভাইপোর ভরসায় লড়তে গিয়ে জাহাঙ্গির বাবু সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়েছেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল নেতৃত্ব প্রার্থীকে গাছে তুলে দিয়ে এখন নিজেরা গা ঢাকা দিয়েছে। বিরোধী দলনেতার মতে, আগামী ২১ মে ফলতার মানুষ এমনিতেও তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করত এবং তারা পোলিং এজেন্ট পর্যন্ত খুঁজে পেত না। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল এই কৌশল অবলম্বন করেছে যাতে বিজেপি কর্মীরা জয়ের আনন্দে ভোটদানে খামতি রাখে। তিনি ফলতার ভোটারদের শতভাগ ভোটদানের আহ্বান জানান।
শান্তি ও উন্নয়নের যুক্তি প্রার্থীর
অন্য দিকে, হঠাৎ রাজনীতি ছাড়ার পেছনে নিজস্ব যুক্তির কথা জানিয়েছেন জাহাঙ্গির খান। তাঁর দাবি, ফলতার সাধারণ মানুষের শান্তি বজায় রাখা এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার জন্য বিশেষ প্যাকেজের যে আশ্বাস দিয়েছেন, তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘সোনার ফলতা’ গড়ে উঠুক—এটাই তিনি চান। জাহাঙ্গির স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত এবং এর পেছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক চাপ নেই।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৯ এপ্রিল ফলতার নির্বাচনের সময় উত্তরপ্রদেশের বিশেষ পুলিশ আধিকারিক অজয় পাল শর্মার কঠোর ভূমিকার পর থেকেই জাহাঙ্গিরের ওপর চাপ বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত ভোটের দু’দিন আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে এই হেভিওয়েট প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোয় ফলতার নির্বাচনী সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেল, যার সরাসরি সুবিধা পেতে পারে বিজেপি।