সেপ্টেম্বরেই আবার ভারতে আসছেন ভ্লাদিমির পুতিন, তুঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক তৎপরতা

সেপ্টেম্বরেই আবার ভারতে আসছেন ভ্লাদিমির পুতিন, তুঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক তৎপরতা

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের জন্য ভারত সফরে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের সভাপতিত্বে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পুতিন দিল্লি এসেছিলেন।

বদল হচ্ছে বৈশ্বিক রাজনীতির সমীকরণ

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি যখন এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ভারতে বসছে ব্রিকসের এই আসর। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই ফোরাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার এবং পশ্চিম বিশ্বের প্রচলিত ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত ব্রিকস সম্মেলন থেকে নতুন কোনো বার্তা আসে কি না, সেদিকেই নজর বিশ্ব কূটনৈতিক মহলের।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্য

পুতিনের এই সফরের পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, এই বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাশিয়া সফরের জন্য মস্কো জোরদার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী ইতিমধ্যেই তাঁর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বাণিজ্যসহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে দুই দেশই।

ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও রাশিয়ার গুরুত্ব

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও, দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ও সামরিক স্বার্থে রাশিয়ার অবস্থান নয়াদিল্লির কাছে অপরিবর্তিত রয়েছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক সরঞ্জামের একটি বড় অংশই রাশিয়ার তৈরি, যার মধ্যে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সুখোই যুদ্ধবিমান এবং যৌথভাবে তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র অন্যতম। উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহের কারণে ভারতের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে মস্কো এখনো অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ফলে এই সফরের মাধ্যমে একদিকে যেমন ব্রিকস জোটের শক্তি প্রদর্শিত হবে, অন্যদিকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *