হাওড়ায় ভোরের আলো ফুটতেই রক্তক্ষয়ী কাণ্ড, বাড়ির সামনে নৃশংসভাবে খুন মাংস ব্যবসায়ী

হাওড়ায় ভোরের আলো ফুটতেই রক্তক্ষয়ী কাণ্ড, বাড়ির সামনে নৃশংসভাবে খুন মাংস ব্যবসায়ী

মঙ্গলবার সকালে হাওড়ার বাঁকড়ায় এক যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বাড়ির অদূরেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ওই যুবককে। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার নৃশংসতায় গোটা এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ভোরের আলো ফুটতেই রক্তাক্ত রাস্তা

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম সাদাব কুরেশি (২৬)। পেশায় তিনি একজন মাংস ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রতিদিনের মতো এদিনও কাজের উদ্দেশ্যে ভোর ৫টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হন সাদাব। এর ঠিক ঘণ্টাখানেক পর, সকাল ৬টা নাগাদ বাঁকড়ার রসিকল এলাকায় নিজের বাড়ির সামনের রাস্তায় তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় পথচারীরা। যুবকের গলায়, ঘাড়ে এবং শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। মারাত্মক জখম অবস্থায় সাদাবকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এরপর কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হয় ওই যুবকের।

তদন্তে পুলিশ ও সম্ভাব্য কারণ

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ নিশ্চিত যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে ঠিক কী কারণে এবং কারা এই যুবকের ওপর এমন নৃশংস হামলা চালাল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। ব্যবসায়িক শত্রুতা, কোনো পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো মোটিভ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পাশাপাশি স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকে সাদাবের পরিবার এবং প্রতিবেশী মহলে তীব্র শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৃত যুবকের স্ত্রী ও একটি ছোট শিশুসন্তান রয়েছে। দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *