১৭% থেকে কমে ৭%! মুসলিম ওবিসি কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত শুভেন্দু মন্ত্রিসভার

শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই নিজের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে সবচেয়ে বড় এবং নজিরবিহীন পদক্ষেপটি গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে ওবিসি (OBC) সংরক্ষণের পরিমাণ এক ধাক্কায় ১৭% থেকে কমিয়ে ৭% করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে, মুসলিম সম্প্রদায়ের ওবিসি সংরক্ষণ আপাতত সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। রাজনৈতিক এবং আইনি—দুই দিক থেকেই এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও নির্বাচনী সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সংরক্ষণের সীমা হ্রাসের আইনি প্রেক্ষাপট
বাম এবং বিশেষ করে তৃণমূল জমানায় রাজ্যে ওবিসি কোটা বাড়িয়ে ১৭% করা হয়েছিল। এর অধীনে ওবিসি-এ (OBC-A) এবং ওবিসি-বি (OBC-B) ক্যাটাগরি তৈরি করে সংরক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। বর্তমান সরকারের দাবি, এই বর্ধিত সংরক্ষণের আইনি ভিত্তি এবং সমীক্ষায় বিস্তর অসঙ্গতি ছিল। সংবিধানের মূল কাঠামো এবং সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়েই ওবিসি সংরক্ষণের ঊর্ধ্বসীমা কমিয়ে ৭% করার সিলমোহর দিয়েছে ক্যাবিনেট। এর ফলে রাজ্যে সামগ্রিক ওবিসি সংরক্ষণ এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ কমে যাচ্ছে।
ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণ বাতিল ও প্রভাব
নতুন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মুসলিম ওবিসি কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করা। ওবিসি-এ ক্যাটাগরির সিংহভাগ এবং ওবিসি-বি ক্যাটাগরির একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মুসলিমদের বিভিন্ন গোষ্ঠী। কলকাতা হাইকোর্ট আগেই রাজ্যে বহু মুসলিম গোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করেছিল। বর্তমান মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও সংরক্ষণের বিধান নেই। বিগত সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে তোষণের নীতি নিয়ে ঢালাওভাবে মুসলিমদের ওবিসি তালিকাভুক্ত করেছিল, যার ফলে প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দুরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। আদালতের রায় ও আইনি বাধ্যবাধকতাকে মান্যতা দিয়েই এই কোটা আপাতত সম্পূর্ণ বাতিল করা হলো।
এই বড়সড় পরিবর্তনের ফলে সরকারি চাকরি এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে অবিলম্বে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। ওবিসি তালিকার পুনর্বিন্যাসের পর শুধুমাত্র তফসিলি জাতি (SC) এবং উপজাতির (ST) বাইরে থাকা প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দু সম্প্রদায়গুলিই এই ৭% সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই এই ‘ত্রুটি’ সংশোধনের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর কোর ভোটারদের দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলি আগামী দিনে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।