ব্যস্ত সময়ে ফের মেট্রোয় আত্মহত্যার চেষ্টা, চরম ভোগান্তিতে অফিস ফেরত যাত্রীরা

কলকাতার লাইফলাইন মেট্রো রেল পরিষেবা ফের একবার বড়সড় বিঘ্নের মুখে পড়ল। সোমবারের রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাঁশদ্রোণী অর্থাৎ মাস্টারদা সূর্য সেন মেট্রো স্টেশনে ঘটল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আপ লাইনে এক যাত্রীর আচমকা আত্মহত্যার চেষ্টার জেরে অফিস ফেরত ব্যস্ত সময়ে পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায় পাতাল রেলের চাকা। এর ফলে চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয় হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীকে।
সন্ধ্যা নামতেই লাইনে ঝাঁপ, বন্ধ বিদ্যুৎ সংযোগ
সাধারণত অন্যান্য দিনের মতোই মঙ্গলবার বিকেল এবং সন্ধ্যার সন্ধিক্ষণে মাস্টারদা সূর্য সেন মেট্রো স্টেশনে অফিস ফেরত যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ঘড়িতে তখন ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিট। স্টেশনে একটি আপ লাইনের ট্রেন ঢোকার মুহূর্তেই ঘটে এই বিপর্যয়। ডাউন লাইনে ট্রেন আসার ঠিক আগেই এক যাত্রী আচমকা লাইনে ঝাঁপ দেন। ঘটনাটি নজরে আসতেই স্টেশন চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বা পাওয়ার ব্লক বিচ্ছিন্ন করে উদ্ধারকার্য শুরু করে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।
পরপর দু’দিন একই ঘটনা, ক্ষোভের মুখে কর্তৃপক্ষ
মেট্রো রেলে এই ধরণের আত্মহত্যার চেষ্টা বা দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই অর্থাৎ সোমবার বিকেল ৪টে ১০ মিনিট নাগাদ রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনেও এক যাত্রী লাইনে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। এই লাগাতার বিভ্রাটের জেরে মেট্রো রেলের যাত্রী সুরক্ষার পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের একাংশ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে এবং তা রুখতে কেন স্থায়ী পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।