হকার উচ্ছেদ ও বুলডোজার সংস্কৃতির প্রতিবাদ, বৃহস্পতিবারে বড় আন্দোলনের ডাক দিল তৃণমূল

হকার উচ্ছেদ ও বুলডোজার সংস্কৃতির প্রতিবাদ, বৃহস্পতিবারে বড় আন্দোলনের ডাক দিল তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবনির্বাচিত সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙা এবং রেলের জমি থেকে দখলদার সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে অভিযান চালিয়ে হকারদের অস্থায়ী ঝুপরি ও দোকান ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে এবার পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ২১ মে হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন এবং বালিগঞ্জের কাছে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।

উচ্ছেদের কারণ ও রাজনৈতিক বিরোধ

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বেআইনি নির্মাণ ও অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান তীব্র করা হয়েছে। রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অসংখ্য অস্থায়ী দোকানপাট এই অভিযানের জেরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কালীঘাটে দলের বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত একটি বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হকারদের পুনর্বাসন না দিয়ে বুলডোজার দিয়ে দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং সাংবিধানিক আদর্শের অবমাননা করা হচ্ছে। এই উচ্ছেদ অভিযানের পাল্টা জবাব দিতেই তৃণমূল রাজপথে নামার কৌশল নিয়েছে।

পুনর্নির্বাচনের দিনে আন্দোলনের প্রভাব

আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কাকতালীয়ভাবে, নির্বাচনের ঠিক আগের দিনই তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার জন্ম দিয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই একই দিনে কলকাতার দুই বড় স্টেশন ও বালিগঞ্জে তৃণমূলের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযানে বিরোধী দলগুলিকে সক্রিয় দেখা গেলেও তৃণমূল মাঠের বাইরে ছিল। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দল যেমন হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের পুরনো আন্দোলনের ভাবমূর্তি ফিরে পেতে চাইছে, তেমনই ফলতার ধাক্কা সামলে কর্মীদের চাঙ্গা করাই এখন মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *