সন্দেশখালিতে ইডির ওপর হামলায় গ্রেফতার শাহজাহান ঘনিষ্ঠ দুই হেভিওয়েট তৃণমূল নেত্রী

উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির সাবেক ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহান বর্তমানে শ্রীঘরে থাকলেও তাঁর তৈরি অপরাধ সাম্রাজ্যের শিকড় উপড়ে ফেলতে নজিরবিহীন অ্যাকশন শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। শ্রীদাম হাউলির পর এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ দুই হেভিওয়েট তৃণমূল নেত্রী। সন্দেশখালিতে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আধিকারিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো, ভোট পরবর্তী হিংসা ছড়ানো এবং এলাকায় দিনের পর দিন অশান্তি পাকানোর মতো একাধিক গুরুতর ও জামিন অযোগ্য অপরাধের অভিযোগে এই দুই নেত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধৃতদের মধ্যে একজন হলেন খোদ সন্দেশখালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা বসিরহাট জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সভানেত্রী সবিতা রায়। অন্যজন হলেন সন্দেশখালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির অন্যতম প্রভাবশালী কর্মাধ্যক্ষ মিঠু সর্দার।
মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাকে গভীর রাতে জালে দুই নেত্রী
পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দেশখালি এলাকায় কড়া পুলিশি অভিযান ও ধরপাকড় শুরু হতেই গ্রেফতারির ভয়ে এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছিলেন এই দুই তৃণমূল নেত্রী। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় অতর্কিতে যৌথ হানা দেয় সন্দেশখালির ন্যাজাট থানার পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগ। সেখান থেকেই আত্মগোপন করে থাকা সবিতা রায় ও মিঠু সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবারই দুই নেত্রীকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবেন তদন্তকারীরা।
ইডি-র ওপর হামলা ও ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ
রেশন বণ্টন দুর্নীতির তদন্তে নেমে যখন ইডি-র একটি বিশেষ দল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে সন্দেশখালির আকুঞ্জিপাড়ায় শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল, তখন মাইকিং করে ও সুপরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার লোক জড়ো করে ইডি অফিসারদের ওপর এক রক্তক্ষয়ী হামলা চালানো হয়েছিল। ইডি আধিকারিকদের মাথা ফাটিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করার সেই কুখ্যাত ঘটনার নেপথ্যে এই সবিতা রায় ও মিঠু সর্দার অন্যতম প্রধান উস্কানিদাতা ও চক্রান্তকারী ছিলেন বলে পুলিশের চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। শুধু ইডি-র ওপর হামলাই নয়, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সন্দেশখালির বিস্তীর্ণ এলাকায় বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর চড়াও হওয়া, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং নারী নির্যাতনের মতো একাধিক গুরুতর মামলার ডসিয়ার রয়েছে এই দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে।
ক্ষমতার সমীকরণ বদল ও রাজনৈতিক প্রভাব
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ক্ষমতার অলিন্দে পরিবর্তন আসতেই সন্দেশখালির পুরো সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। এতদিন যে সমস্ত নেতা-নেত্রীদের দাপট চলত, আজ তাঁরাই পুলিশের ভয়ে ভিন জেলায় পালিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা করতে পারছেন না। সন্দেশখালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির খোদ সভানেত্রী ও কর্মাধ্যক্ষ পদমর্যাদার দুই নেত্রীর এই নাটকীয় পতন ও গ্রেফতারি বসিরহাট মহকুমার শাসক শিবিরে এক বিশাল ধাক্কা দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।