বুলডোজার রাজনীতির বিরুদ্ধে এবার রাজপথে তৃণমূল, হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে উত্তাল হচ্ছে বাংলা

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখল রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে হাতিয়ার করেই এবার বাংলায় বিজেপির ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ এবং রেলের জমিসহ বিভিন্ন স্টেশন চত্বর থেকে জোরপূর্বক হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধী আসনে বসা তৃণমূল ফের একবার তাদের চেনা ছক অর্থাৎ পথ আন্দোলন ও গণবিক্ষোভের রাজনীতিতে ফিরে আসতে চাইছে। আগামী বৃহস্পতিবার হাওড়া, শিয়ালদহ এবং বালিগঞ্জ স্টেশনের কাছাকাছি এলাকায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
কালীঘাটের বৈঠক ও সর্বাত্মক আন্দোলনের ব্লু-প্রিন্ট
মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূলের বিধায়ক ও শীর্ষ নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সূত্রে খবর, এই বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে চলমান উচ্ছেদ অভিযান এবং বুলডোজার রাজনীতির বিরুদ্ধে শাসকদল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানান। বৈঠকের পর তৃণমূলের এক বিধায়ক মমতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানান যে, বুলডোজার দিয়ে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং এই সরকার সাংবিধানিক আদর্শ ও মূল্যবোধকে উপহাস করছে। ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বিজেপি সরকার যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কথিত বেআইনি কাঠামোর বিরুদ্ধে একের পর এক উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই এবার সর্বাত্মক আন্দোলনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে তৃণমূল।
দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে রাজপথে ফেরার নেপথ্য কারণ ও প্রভাব
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তৃণমূলকে সেভাবে কোনো গণআন্দোলনে বা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। এমনকি তিলজলায় যখন কথিত বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার চালানো হয়েছিল, তখনও তৃণমূল নেতারা মাঠ পর্যায় থেকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন। সেই সময় আন্দোলনের জমি আইএসএফ এবং সিপিআইএম-এর মতো দলগুলির হাতে চলে গিয়েছিল। বিভিন্ন জেলায় রেলের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান তীব্র হওয়ার পরেও এত দিন মৌনতাই বজায় রেখেছিল ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেদের হারানো রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধার এবং জনভিত্তি মজবুত করতেই তৃণমূলের এই দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত।
এই আন্দোলনের টাইমিং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আগামী বৃহস্পতিবার যখন দলটির এই বড়সড় বিক্ষোভ কর্মসূচি রূপায়িত হতে চলেছে, ঠিক সেই দিনই ফালতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, এই ফালতা আসনেই তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের আকস্মিক মনোনয়ন প্রত্যাহার করা নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্বস্তিতে পড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস, যা বিজেপিকে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। ফলে ফালতার ভোটের দিনই কলকাতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে এই হকার উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়তে চলেছে এবং এর প্রভাব যে রাজ্য রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।