মাস্টার্সে ভর্তির দিনক্ষণ ঘোষণা করল উচ্চশিক্ষা দফতর, ১ আগস্ট থেকেই শুরু ক্লাস!

মাস্টার্সে ভর্তির দিনক্ষণ ঘোষণা করল উচ্চশিক্ষা দফতর, ১ আগস্ট থেকেই শুরু ক্লাস!

রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স স্তরে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে বিগড়ে যাওয়া ধোঁয়াশা কাটল। অবশেষে উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে জারি করা হলো ভর্তির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যজুড়ে স্নাতকোত্তরের সমস্ত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আর ১ আগস্ট থেকেই শুরু হয়ে যাবে জেনারেল কোর্সের নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস।

উচ্চশিক্ষা দফতরের কড়া নির্দেশ, গোটা ভর্তি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে। আবেদনপত্র জমা দেওয়া থেকে শুরু করে নথিপত্র স্ক্যান বা আপলোড করার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো রকম ফি বা অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না। এমনকি ক্লাস শুরু হওয়ার আগে কোনো অবস্থাতেই ছাত্রছাত্রীদের সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজিরা দেওয়ার জন্য ডাকা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংরক্ষণের নতুন বিন্যাস ও ভর্তির হিড়িক

এবারের বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আসন সংরক্ষণে নির্দিষ্ট ভাগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুমোদিত কলেজ রয়েছে, সেখানে নিজস্ব শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০ শতাংশ এবং অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্য ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্সি বা যাদবপুরের মতো ইউনিটারি বা একক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে নিজস্ব শিক্ষার্থীদের জন্য ৯০ শতাংশ এবং বাকি ১০ শতাংশ আসন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, আদালতের নতুন ওবিসি সংরক্ষণ বিধি মেনে ১৭ শতাংশের বদলে ৭ শতাংশ এবং ৬৬টি ক্যাটিগরিকে এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির ব্যস্ততা তুঙ্গে। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার থেকেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও কলা শাখায় এবং রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারু ও দৃশ্যকলা বিভাগে আজ, বুধবার থেকে ভর্তির আবেদন নেওয়া শুরু হচ্ছে। এদিকে কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে স্নাতকে অভিন্ন ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতেই প্রথম পাঁচ ঘণ্টাতেই সাড়ে ৩৩ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়া জটিলতা

সরকারি এই নিয়মবিধির জেরে বড়সড় জটিলতার মুখে পড়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা স্নাতকোত্তরের জন্য একটি নিজস্ব প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ঠিক ছিল, পঞ্চম সেমেস্টারের পড়ুয়ারা এই পরীক্ষায় বসবেন এবং প্রাপ্ত নম্বর ও প্রবেশিকার ফলের ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট আসনের ৪৮ শতাংশ নিজস্ব কলেজের জন্য এবং ৩২ শতাংশ আসন প্রবেশিকা পরীক্ষার ভিত্তিতে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা ছিল। বাকি ২০ শতাংশ আসন এক বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সের যোগ্যতা অর্জনকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সম্পূর্ণ ভর্তি প্রক্রিয়াটি হতে হবে মেধার ভিত্তিতে। এমতাবস্থায় উচ্চশিক্ষা দফতরের এই ‘মেধা তালিকা’র নিয়মটি প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বা নীতিগত বাধা তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে চরম ধন্দে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *