কোটা থেকে হাওড়া, একের পর এক ট্রেনে অগ্নিকাণ্ড আসলে ‘অন্তর্ঘাত’! নাশকতার বড় ষড়যন্ত্রের বিস্ফোরক দাবি রেলের

রাজস্থানের কোটা থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া— গত মাত্র এক সপ্তাহে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে চলন্ত ট্রেনে পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ যাত্রীসুরক্ষা যখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে, ঠিক তখনই এই সমস্ত দুর্ঘটনার নেপথ্যে এক মারাত্মক অন্তর্ঘাত ও গভীর আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ চক্রান্তের তত্ত্ব সামনে আনল ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ (Indian Railways)। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের মন্ত্রকের দাবি, এই ঘটনাগুলি কোনো সাধারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত নাশকতার ছক।
প্রাথমিক তদন্তে সমাজবিরোধীদের যোগসূত্র, স্ক্যানারে অন্তর্ঘাত তত্ত্ব
রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, গত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের অকুস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং প্রাথমিক তদন্তের যে রিপোর্ট রেল বোর্ডের হাতে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান:
- সমাজবিরোধীদের সক্রিয়তা: দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেল রুটে ট্রেনগুলিকে লক্ষ্য করে বা ট্রেনের ভেতরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পেছনে কোনো বড় মাপের সমাজবিরোধী চক্র সরাসরি যুক্ত রয়েছে।
- নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট: রেলের সিগন্যালিং ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করা বা যান্ত্রিক গোলযোগ তৈরি করার চেয়েও, চলন্ত ট্রেনে আগুন লাগিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করাই এই চক্রের মূল লক্ষ্য। তদন্তকারী আধিকারিকেরা কোনোভাবেই এই ঘটনার পেছনে বড়সড় নাশকতামূলক বা জঙ্গি যোগসূত্রের তত্ত্বকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
যাত্রী সুরক্ষায় হাই-অ্যালার্ট জারি দেশজুড়ে
রেল মন্ত্রকের এই বিস্ফোরক দাবির পর, ভারতীয় রেলের প্রতিটি জোনে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলির ওপর দিয়ে যাওয়া দূরপাল্লার ট্রেনগুলিতে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এবং জিআরপি (GRP)-র টহলদারি এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন যাত্রীদের লগেজ চেকিং থেকে শুরু করে ট্রেনের কামরায় দাহ্য পদার্থ রুখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। ছাব্বিশের এই ট্রেন-অগ্নিকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকেও যুক্ত করা হতে পারে বলে নবান্ন ও রেল সূত্রে খবর।