ফুটপাত দখল করে বেআইনি নির্মাণ, বাঁশদ্রোণীতে বুলডোজার দিয়ে দোকান গুঁড়িয়ে দিল কলকাতা পুরসভা

কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অফিসে ৭ দিনের বুলডোজার হুঁশিয়ারির রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার কলকাতার অন্য প্রান্তে সরাসরি অ্যাকশনে নামল পুর প্রশাসন। বুধবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার গড়িয়া শ্মশান সংলগ্ন অঞ্চলে একটি বড়সড় বেআইনি নির্মাণ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল কলকাতা পুরসভা (KMC)। নতুন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় শহরের জবরদখল ও অবৈধ নির্মাণ রুখতে পুরসভার এই অলআউট অ্যাকশনকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সৌন্দর্যায়নের পথে বাধা, উচ্ছেদ অভিযানে পুরসভা
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়িয়া শ্মশান সংলগ্ন ওই রাস্তা এবং ফুটপাত জুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিয়ম-বহির্ভূতভাবে পাকা ও আধাপাকা কাঠামো তৈরি করে জবরদখল করে রেখেছিলেন। বর্তমান রাজ্য সরকারের নির্দেশে কলকাতা পুরসভা যখন শহরজুড়ে ফুটপাত মুক্তকরণ এবং নতুন করে সৌন্দর্যায়নের (Beautification) মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে, ঠিক তখনই এই অবৈধ নির্মাণগুলি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ ও উচ্ছেদ শাখার আধিকারিকেরা দফায় দফায় নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও জবরদখলকারীরা জায়গা খালি না করায়, বুধবার সকালে চূড়ান্ত পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাঁশদ্রোণী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে চলল বুলডোজার
বুধবার সকালে কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে একাধিক বুলডোজার ও পে-লোডার নিয়ে গড়িয়া শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছন পুর আধিকারিকেরা। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো রকম আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে বা রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি না হয়, তার জন্য আগে থেকেই সতর্ক ছিল প্রশাসন।
ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছিল বাঁশদ্রোণী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স। পুলিশের উপস্থিতিতেই ফুটপাত দখল করে থাকা বেআইনি দোকান ও ঘরগুলি বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
শহরজুড়ে কড়া বার্তার ইঙ্গিত
পুরসভার এই ঝটিকা অভিযানের পর গড়িয়া ও বাঁশদ্রোণী এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। তাঁদের দাবি, ফুটপাত জবরদখল হয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হতো, যার ফলে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটত।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, একদিকে কালীঘাটের হাই-প্রোফাইল সম্পত্তিতে নোটিশ টাঙানো আর অন্যদিকে বাঁশদ্রোণীতে সরাসরি বুলডোজার চালানো— সব মিলিয়ে নতুন পুর প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, বেআইনি নির্মাণ বা সরকারি সম্পত্তি দখলের ক্ষেত্রে অপরাধী ছোট হোক বা বড়, কাউকে রেয়াত করা হবে না।