২৭ কিমি সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত করতে জমি হস্তান্তর, দশকের ‘অচলবস্থা’ কাটিয়ে বিএসএফ-এর সাথে নিয়মিত বৈঠকের মেগা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

২৭ কিমি সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত করতে জমি হস্তান্তর, দশকের ‘অচলবস্থা’ কাটিয়ে বিএসএফ-এর সাথে নিয়মিত বৈঠকের মেগা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার মেগা নির্দেশিকা জারির পর, এবার সীমান্ত সুরক্ষায় আরও এক ঐতিহাসিক ও বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার উত্তরবঙ্গের সফর থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের সীমান্ত এলাকাকে নিশ্ছিদ্র ও সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২৭ কিলোমিটার এলাকার প্রয়োজনীয় জমি ইতিমধ্যেই হস্তান্তর করা হয়েছে।

ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানা পাহারা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর (BSF) মধ্যে যে এক অভূতপূর্ব সমন্বয় তৈরি হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা তারই বড় প্রমাণ।

কয়েক দশক পর নবান্ন-বিএসএফ বৈঠক, মমতার নীতিকে তীব্র খোঁচা

বিগত সরকারের জমানায় রাজ্য প্রশাসনের সাথে কেন্দ্রীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যে চরম সমন্বয়হীনতা এবং টানাপোড়েন ছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান:

“বিগত কয়েক দশক ধরে এই রাজ্যের সীমান্তে বিএসএফ-এর সাথে রাজ্য প্রশাসনের কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকই হয়নি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে এই বৈঠক নিয়মিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি ও বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে আগের সরকার তা করেনি। আমাদের নতুন সরকার আসার পর ইতিমধ্যে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করা হয়ে গিয়েছে এবং এখন থেকে নিয়মিত এই সমন্বয় বৈঠক হবে।”

দেশপ্রেমিক জনগণ ও দক্ষ আধিকারিকদের ওপর ভরসা মুখ্যমন্ত্রীর

২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাকে কাঁটাতারের বেড়ায় মুড়ে ফেলা বা সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের এই কাজটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক সূচনা’ বলে বর্ণনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি অধিগ্রহণ ও সীমান্ত সুরক্ষার এই মেগা প্রজেক্টটি যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, রাজ্যের দেশপ্রেমিক সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনের দক্ষ আধিকারিকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কিছু দিনের মধ্যেই এই কাজ সম্পূর্ণ করবেন এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-কে সব রকম সহযোগিতা জোগাবেন।

অনুপ্রবেশ রুখতে ডাবল ইঞ্জিন স্ট্র্যাটেজি, চাপে বিরোধীরা

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই পর পর দুটি ঘোষণা— প্রথমত সিএএ-র বাইরের অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতার করে বিএসএফ-এর হাতে দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, দশকের জট কাটিয়ে সীমান্ত সুরক্ষায় ২৭ কিমি জমি হস্তান্তর করা— অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী মাস্টারস্ট্রোক।

একদিকে যখন পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারি, সল্টলেক ও কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার বুলডোজার নোটিশ এবং নদিয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম কোণঠাসা, ঠিক তখনই শুভেন্দু অধিকারী সীমান্ত জেলাগুলিতে বিজেপির মূল রাজনৈতিক এজেন্ডা বা ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ইস্যুকে সামনে এনে প্রশাসনকে এক নতুন গতি দিলেন। এর ফলে আগামী দিনে সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *