সবুজ সংকেত মেলা সত্ত্বেও কেন থমকে এসএসসি মামলার বিচার? ক্ষুব্ধ সিবিআই ছুটল হাইকোর্টে

স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলেও আইনি জট যেন কিছুতেই কাটছে না। গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগ কেলেঙ্কারির মূল বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসনের সবুজ সংকেত মিললেও নিম্ন আদালতের এক সিদ্ধান্তের কারণে গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আটকে রয়েছে। এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। গোয়েন্দাদের দাবি, বিশেষ সিবিআই আদালত এই দুর্নীতি মামলার শুনানির কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয় অনুমতি দিচ্ছে না, যার জেরে থমকে রয়েছে কয়েক হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা ও নিম্ন আদালতের আইনি জট
আদালত ও সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, এসএসসি গ্রুপ ডি নিয়োগ দুর্নীতির গভীরতা ও জালিয়াত চক্রের জাল মেলাতে গিয়ে সিবিআই-এর তরফে মোট ৪টি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। সেই সুবাদে আলাদা আলাদা ৪টি ধারায় সমান্তরাল মামলাও রুজু হয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, এই ৪টি মামলার চরিত্র ও অপরাধের যোগসূত্র যেহেতু একই, তাই নিম্ন আদালতে সব কটি মামলাকে একত্রিত বা ‘ক্লাব’ করে যৌথভাবে শুনানি শুরু করা হোক। সিবিআই-এর অভিযোগ, দেশের শীর্ষ আদালতের সেই গাইডলাইন থাকা সত্ত্বেও নিম্ন আদালত গ্রুপ ডি মামলার এই যৌথ শুনানি বা বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আইনি অনুমোদন দিচ্ছে না। ফলে আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
রাজ্যের ছাড়পত্র মিললেও কাটছে না জট
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এই দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত কমিশনের প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তি প্রসাদ সিনহা, প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়সহ একাধিক প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর অনুমোদন দিয়েছে নবান্ন। আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ বা বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। রাজ্য সরকারের সেই ‘স্যানকশন ফর প্রসিকিউশন’ বা বিচার শুরুর অনুমোদন মেলার পর সিবিআই-এর অন্তত চারটি পৃথক মামলার ক্ষেত্রে বড় বাধা কেটে গিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের সেই সবুজ সংকেত সত্ত্বেও এখন নিম্ন আদালতের অনীহায় থমকে গেছে পরবর্তী ধাপ, যা যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষাকে আরও দীর্ঘায়িত করছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং দ্রুত শুনানির প্রক্রিয়া চালু করতেই শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চাইল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।