৫৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ু সরকারে কংগ্রেস, বিজয়ের হাত ধরে দাক্ষিণাত্যে নতুন সমীকরণ

৫৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ু সরকারে কংগ্রেস, বিজয়ের হাত ধরে দাক্ষিণাত্যে নতুন সমীকরণ

দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক খরা কাটিয়ে তামিলনাড়ুর শাসনক্ষমতায় সরাসরি অংশীদার হতে চলেছে কংগ্রেস। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে মন্ত্রীপদ পেতে চলেছে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলটি। বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দলের দুই বিধায়কের মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। কংগ্রেস বিধায়ক রাজেশ কুমার এবং পি বিশ্বনাথন অভিনেতা তথা রাজনীতিক থলপতি বিজয়ের নতুন মন্ত্রিসভায় যোগ দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবারই তাঁদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কড়গম (টিভিকে)-এর হাত ধরে তামিল রাজনীতিতে কংগ্রেসের এই প্রত্যাবর্তনকে রাহুল গান্ধীর ঘুরে দাঁড়ানোর এক বড় চাল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ঐতিহাসিক পটভূমি ও পটপরিবর্তন

তামিলনাড়ুতে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের শাসন অক্ষুণ্ণ ছিল এবং কে কামরাজ ছিলেন দলটির শেষ মুখ্যমন্ত্রী। এরপর আঞ্চলিক রাজনীতির উত্থানে সেখানে জাতীয় দল হিসেবে কংগ্রেস ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ে। বিগত প্রায় ৬০ বছর ধরে তামিলনাড়ুর ক্ষমতা আবর্তিত হয়েছে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-কে কেন্দ্র করে। এই দীর্ঘ সময়ে কংগ্রেস একাধিক সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন করলেও সরাসরি সরকারে যোগ দেওয়ার সুযোগ পায়নি। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে সেখানকার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। নির্বাচনে ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিজয়ের দল টিভিকে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারায় সরকার গঠনে বিভিন্ন দলের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস, ডিএমকে-র সঙ্গ ছেড়ে বিজয়কে সমর্থন করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়।

শরিক বদলের কারণ ও দূরগামী প্রভাব

দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত জোটসঙ্গী ডিএমকে-কে ছেড়ে কংগ্রেসের এই আকস্মিক শরিক বদলের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আসাম্মান। তামিলনাড়ুর স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ ছিল, ডিএমকে জোট ক্ষমতায় থাকাকালীনও সরকারে কংগ্রেসের কোনো অংশীদারিত্ব বা মন্ত্রীপদ দেওয়া হতো না। এমনকি পুরসভা বা স্থানীয় উন্নয়ন বোর্ডগুলিতেও কংগ্রেসের গুরুত্ব ছিল না।

কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের ফলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে-র একক আধিপত্য বড়সড় ধাক্কা খেল। অন্যদিকে, সরকারে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে কংগ্রেস তৃণমূল স্তরে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি পুনর্নির্মাণ করার সুযোগ পাবে। বিজয়ের নতুন সরকারের স্থায়িত্ব যেমন এখন কংগ্রেসের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল, তেমনই এই জোটের সাফল্য আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতেও দাক্ষিণাত্যের প্রভাব বিস্তারে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *