তিন ঘণ্টাতেই বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি! ডবল ইঞ্জিন সরকার আসতেই গতি পাচ্ছে বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন

তিন ঘণ্টাতেই বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি! ডবল ইঞ্জিন সরকার আসতেই গতি পাচ্ছে বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল এবং ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের পরপরই দেশের উচ্চগতির রেল মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে উত্তরবঙ্গের নাম। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী পর্যন্ত বুলেট ট্রেন প্রকল্প চালুর জন্য বড়সড় উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় রেল। সব কিছু ঠিক থাকলে, আগামী জুলাই মাস থেকেই এই প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন করিডরের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। বিহারের পাটনা হয়ে এই উচ্চগতির ট্রেন চালু হলে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ— এই তিন রাজ্য এক সুতোয় বাঁধা পড়বে।

রেল সূত্রে জানা গেছে, এই মেগা রেল প্রকল্পের জন্য ‘ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড’ ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ সমীক্ষক দল গঠন করেছে। আগামী জুলাই মাস থেকে আকাশপথ এবং স্থলপথে যৌথভাবে সমীক্ষার কাজ শুরু হবে। এই সমীক্ষার উপর ভিত্তি করেই করিডরের চূড়ান্ত রুট এবং প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি দিক নির্ধারণ করা হবে। রেল কর্তৃপক্ষ ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ (ডিপিআর) প্রস্তুত করার সময়সীমা নির্দিষ্ট করেছে। এই রিপোর্ট রেল বোর্ডে পাঠানোর পর সেখান থেকে সবুজ সংকেত মিললেই পুরোদমে লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

যোগাযোগে যুগান্তকারী বিপ্লব ও জাজল প্রযুক্তি

মুম্বই-আমদাবাদ রুটে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের আদলেই গড়ে উঠবে এই নিউ জলপাইগুড়ি-বারাণসী করিডর। মোদি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতি মেনে জাপানের বিখ্যাত ‘শিনকানসেন’ প্রযুক্তিতে তৈরি হবে এই ট্রেন। ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন এই ট্রেনের ডিজাইন, সিগন্যালিং এবং সেফটি স্ট্যান্ডার্ড— সবই নেওয়া হয়েছে জাজল প্রযুক্তি থেকে। বর্তমানে বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছাতে যেখানে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়, সেখানে বুলেট ট্রেন চালু হলে বিহারের পাটনা হয়ে এই দূরত্ব পার করা যাবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে। চোখের পলকে এই যাতায়াত ব্যবস্থা উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী বিপ্লব এনে দেবে।

বাণিজ্য ও পর্যটনে বিপুল জোয়ারের সম্ভাবনা

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মানচিত্রে এক বিশাল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ডুয়ার্স ও পাহাড়ের পর্যটন শিল্পে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বারাণসী ও সংলগ্ন অঞ্চলের দেশি-বিদেশি পর্যটকরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গে পৌঁছাতে পারবেন, যা এই অঞ্চলের পর্যটন ব্যবসাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। উত্তরবঙ্গের বণিকসভা এবং পর্যটন সংস্থাগুলিও এই উদ্যোগে বিপুল আশার আলো দেখছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে কর্মসংস্থানের এক নতুন ও বিপুল দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *