ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ, এবার ড্যামেজ কন্ট্রোলে কুণালদের কালীঘাটে তলব করলেন মমতা

ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ, এবার ড্যামেজ কন্ট্রোলে কুণালদের কালীঘাটে তলব করলেন মমতা

নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বাড়ছে ক্ষোভ ও অন্তর্ঘাতের আবহ। বিশেষ করে ফলতার প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গির খানের শেষ মুহূর্তে ভোট ময়দান থেকে পিছু হটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। এই পরিস্থিতিতে দলের অন্দরের ‘বিদ্রোহ’ সামাল দিতে এবং ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে খোদ আসরে নামলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে জরুরি ভিত্তিতে কালীঘাটের বাসভবনে ডেকে পাঠানো হয়।

নেতৃত্বের ভূমিকায় ক্ষোভ ও জাহাঙ্গির বিতর্ক

তৃণমূলের অন্দরে এই ক্ষোভের মূল কারণ ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গির খানের আকস্মিক নিষ্ক্রিয়তার ঘোষণা। ভোটের মুখে জাহাঙ্গির স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি এই নির্বাচনে লড়ছেন না। দলের এই দুঃসময়ে তাঁর এমন আচরণকে ভালো চোখে দেখছেন না জয়ী বিধায়কদের একাংশ। কুণাল, ঋতব্রত ও সন্দীপনের মতো শীর্ষ সারির বিধায়কেরা প্রশ্ন তুলেছেন, এহেন দলবিরোধী কাজের পরেও কেন জাহাঙ্গির খানকে বহিষ্কার বা তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে ঘরে বসে আলোচনা না করে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশের দাবি তুলেছিলেন তাঁরা, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সাংগঠনিক চাপ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এই ভরাডুবির পর দলের শীর্ষ পদের একাংশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং রণকৌশল নিয়ে নিচু তলা থেকে ওপর তলা—সর্বত্রই চাপ বাড়ছে। কুণাল ঘোষদের মতো বিধায়কদের এই প্রকাশ্য অসন্তোষ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের ওপর এক ধরনের পরোক্ষ বার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কালীঘাটের এই জরুরি বৈঠকের পর জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে দল শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, অথবা বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের শান্ত করতে কোনো সাংগঠনিক রদবদল করা হয় কি না, তার ওপরেই নির্ভর করছে তৃণমূলের আগামী দিনের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *