প্লাটিনাম জুবিলিতে আয়কর কর্মচারী ফেডারেশন, লক্ষ্য সেই কর্মী স্বার্থরক্ষা

প্লাটিনাম জুবিলিতে আয়কর কর্মচারী ফেডারেশন, লক্ষ্য সেই কর্মী স্বার্থরক্ষা

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে কর্মচারীদের অধিকার রক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের লড়াইয়ে এক অবিচল নাম ‘আয়কর কর্মচারী ফেডারেশন’। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কর্মীদের স্বার্থে আন্দোলন, সমাজসেবা এবং নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে এই সংগঠন। এবার গৌরবের ৭৫ বছর পূর্ণ করল তারা। ২০২৬ সাল জুড়ে বিভিন্ন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে এই প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন করা হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বুধবার সকালে সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক উদযাপনের সূচনা হয়। এরপর কলকাতার মহাজাতি সদনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সংগঠনের গৌরবময় ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন কর্মকর্তারা। এই অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী সুমিত বোস এবং শ্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন শ্রী জয়দেব বড়ুয়া এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন আইটিইএফ (ITEF)-এর বেঙ্গল সার্কলের সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুশান্ত চক্রবর্তী। সভার শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

আন্দোলনের ইতিহাস ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা

সংগঠনের কর্মকর্তারা জানান, ইনকাম ট্যাক্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ৬৮ জন কর্মীকে নিয়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংগঠনের পরিধি ও শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মচারীদের অধিকার রক্ষায় আজ তারা এক শক্তিশালী স্তম্ভ। সংগঠনের বিকাশে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি এবং কর্মচারীদের কল্যাণে ফেডারেশনের অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আগামী দিনেও কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং মানবিক পরিষেবার কাজে তারা একইভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক উদ্যোগ

কেবলমাত্র কর্মী স্বার্থরক্ষার আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ না থেকে, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও একাধিক মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এই সংগঠন। বছরভর উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ জুলাই থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চক্ষু পরীক্ষার মতো একাধিক সামাজিক কর্মসূচি। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ প্রচার অভিযানও চালানো হবে। অধিকারের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ আগামী দিনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংগঠনের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *