নিক্কো পার্কে প্রেমিকার সঙ্গে ‘অভিসার’! তারপরই নাবালক প্রেমিকের উপর রক্তাক্ত হামলা

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় ত্রিকোণ প্রেমের এক ভয়াবহ ও নৃশংস পরিণতি সামনে এসেছে। এক তরুণীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র আক্রোশ ও প্রতিহিংসার জেরে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হতে হলো এক নাবালককে। বান্ধবীকে নিয়ে ওয়াটার পার্কে ঘুরতে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার পর, তা সহ্য করতে না পেরে অভিযুক্ত যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই নাবালকের গলা কেটে দেয়। বুধবার সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাক্রম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাবালকের নাম দীপক গুপ্তা। সে নিউ মার্কেটের উমা দাস লেনের বাসিন্দা ছিল। ওই এলাকারই এক তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত শশী তেবরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ওই তরুণীর সঙ্গে নাবালক দীপকের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না শশী। এই নিয়ে দীপককে সে এর আগে একাধিকবার হুমকিও দিয়েছিল।
পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয় গত মঙ্গলবার, যখন দীপক ওই তরুণীকে নিয়ে নিক্কো পার্কের ওয়াটার পার্কে বেড়াতে যায় এবং সেই ভ্রমণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে। এই ছবি দেখার পর শশীর ক্ষোভ চরমে পৌঁছায় এবং তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এর পরদিন, অর্থাৎ বুধবার সকালে অমিয় হাজরা লেনের একটি মুদির দোকানে ঢুকে শশী আচমকাই দীপকের ওপর চড়াও হয় এবং ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে গেলেও অস্ত্রোপচার চলাকালীন দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
অপরাধের কারণ ও সামাজিক প্রভাব
প্রাথমিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ তীব্র পরশ্রীকাতরতা, ক্ষোভ এবং প্রতিশোধস্পৃহা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ছবি কীভাবে অপরাধের তাৎক্ষণিক অনুঘটক (ট্রিগার) হিসেবে কাজ করতে পারে, এই ঘটনা তার একটি বড় উদাহরণ। আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং অল্প বয়সেই হিংসাত্মক পথ বেছে নেওয়ার এই প্রবণতা সমাজবিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলছে। প্রকাশ্য এলাকায় এমন নৃশংস হামলার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এবং গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।