ক্ষমতা হারিয়েই অল-আউট লড়াইয়ে তৃণমূল, বুলডোজার নীতির প্রতিবাদে আজ অচল হতে পারে কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের ‘বুলডোজার নীতি’র বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংঘাতের পারদ তীব্র করল প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। উচ্ছেদ ও ভাঙচুর অভিযানের নামে রাজ্যের হকার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে— এই অভিযোগে আজ, ২১ মে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা জুড়ে এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৮০টি আসনে থমকে যাওয়া তৃণমূলের জন্য এটিই হতে চলেছে প্রথম বড়সড় শক্তি প্রদর্শন। অন্যদিকে, ২০৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই বিজেপি প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভয়ভীতি ও জোরজুলুমের রাজনীতি শুরু করেছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
কলকাতাজুড়ে বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ব্লুপ্রিন্ট
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল যেমন— হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন এবং বালিগঞ্জ এলাকায় বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচি সফল করতে তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকেরা সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যায় জমায়েত হতে শুরু করেছেন, যার ফলে সাধারণ জনজীবনে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত একটি সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে সদ্যপ্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ শানান নতুন সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এ রাজ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে। হকারদের দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।” একই সাথে আগামী দিনে দিল্লি থেকেও বিজেপিকে হঠানোর ডাক দেন তিনি।
আক্রমণাত্মক বিরোধী হিসেবে ময়দানে নামার বার্তা
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিজেপির বিরুদ্ধে এই রাজনৈতিক লড়াই বিধানসভার ভেতরে এবং বাইরে সমান্তরালভাবে চলবে। বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বিজেপি নেতৃত্ব। তবে কোনও চাপের কাছেই মাথা নোয়াবেন না জানিয়ে অভিষেক বলেন, “ওরা যা খুশি করতে পারে, আমার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিতে পারে, নোটিশ পাঠাতে পারে, কিন্তু এই সব করে আমাকে দমানো যাবে না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে দ্রুত আক্রমণাত্মক রূপ নিয়ে বিজেপির ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করাই এখন তৃণমূলের মূল লক্ষ্য। তবে এই সংঘাতের জেরে আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের রুটিরুজি বড়সড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।