ওমান উপসাগরে ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডো অভিযান, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা

ওমান উপসাগরে ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডো অভিযান, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা

ওমান উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় আবারও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন মেরিন বাহিনী। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আমলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টার অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে আমেরিকার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতি।

মার্কিন দাবি ও ৯১টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে টহল দেওয়ার সময় মার্কিন বাহিনী সন্দেহভাজন ওই ইরানি জাহাজে তল্লাশি চালায়। তল্লাশি শেষে নাবিকদের ছেড়ে দেওয়া হলেও জাহাজটিকে তার পূর্বনির্ধারিত গন্তব্যে যেতে বাধা দেওয়া হয় এবং অন্য পথে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, জাহাজটি এমন একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত।

সেন্টকম আরও দাবি করেছে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বজায় রাখতে এবং দেশটির তেল রপ্তানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই নৌ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ৯১টি বাণিজ্যিক জাহাজকে একইভাবে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মার্কিন নজরদারি চরম মাত্রায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব

এই নজিরবিহীন অভিযানের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক বা কূটনৈতিক স্তরে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্য জলপথে এ ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান শীতল যুদ্ধকে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বিশেষ করে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুটে মার্কিন বাহিনীর এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা এবং তা প্রতিহত করার এই দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ের ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *