মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর প্রথম দিল্লি সফর, বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র ১২ দিনের মাথায় প্রথম নয়াদিল্লি সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যজুড়ে একের পর এক প্রশাসনিক সভা, নতুন প্রকল্প ঘোষণা এবং সংস্কারমূলক কাজের মাধ্যমে শুরুতেই সক্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর প্রথম দিল্লি সফরটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক— উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আগামী পরশু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর একটি বিশেষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জঙ্গলমহলের বৈঠক সেরে দিল্লির বিমান
আজ, বৃহস্পতিবার অত্যন্ত ব্যস্ত সূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সকালে বেলুড় মঠে পুজো দিয়ে দিনশুরু করার পর হাওড়া জেলাশাসকের কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি। সেখান থেকে অন্ডাল বিমানবন্দর হয়ে দুর্গাপুরে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। দুপুরে সেখানে জঙ্গলমহলের পাঁচ জেলাকে নিয়ে একটি মেগা প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাঁইথিয়া এলাকায় একটি ধন্যবাদ জ্ঞাপন পদযাত্রায় অংশ নিয়ে অন্ডাল থেকেই সরাসরি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য রাজ্যের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীসহ মোট ৪৪ জন মন্ত্রী হতে পারেন। তবে বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে মাত্র ৬ জন মন্ত্রী দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অধিকাংশ দপ্তর মন্ত্রীবিহীন থাকায় কাজের অতিরিক্ত চাপ পড়ছে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর। আসন্ন জুন মাস থেকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে নতুন সরকারের। তাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে নতুন মন্ত্রীদের নামের তালিকায় সিলমোহর পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে, বিগত সরকারের আমলে আটকে থাকা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো রাজ্যে দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন শুভেন্দু অধিকারী। এই হাইপ্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দিল্লিতে পৌঁছেছেন এবং সুকান্ত মজুমদারও দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। ফলে শুভেন্দুর এই প্রথম দিল্লি সফরকে ঘিরে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে।