বন্দুক উঁচিয়ে ‘ফ্রি’ পেট্রোল, বারাণসীতে ওয়েব সিরিজের কায়দায় তাণ্ডব চালিয়ে শ্রীঘরে দুই যুবক

উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর একটি শান্ত সন্ধ্যা আচমকাই যেন রূপ নিয়েছিল কোনো রোমাঞ্চকর অপরাধভিত্তিক ওয়েব সিরিজের দৃশ্যে। ভরসন্ধ্যায় পেট্রোল পাম্পে ঢুকে তেল নেওয়ার পর টাকা না দিয়ে উল্টো বন্দুক উঁচিয়ে হুমকি দিল দুই যুবক। তবে সিনেমার মতো নিখুঁত অপরাধের এই ছক বাস্তবে বেশি সময় টেকেনি। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালেই ধরা পড়তে হয়েছে এই দুই দুষ্কৃতীকে।
খোদ বারাণসীতে ফিল্মি কায়দায় তাণ্ডব
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর সিন্ধোরা থানা এলাকার গাডখারা গ্রামের একটি পেট্রোল পাম্পে। প্রতিদিনের মতো সেদিন সন্ধ্যায়ও পাম্পের কর্মীরা তাদের নিয়মিত কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে চেপে দুই যুবক সেখানে হাজির হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই তেল ভরতে বলে। পাম্পের কর্মী পেট্রোল ভরা শেষ করে টাকা চাইতেই পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায়। চালকের আসনে বসা যুবকটি তার সঙ্গীর কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সরাসরি ওই কর্মীর দিকে তাক করে। অতর্কিত এই হামলায় প্রাণের ভয়ে পাম্প কর্মী পিছু হঠলে, টাকা না দিয়েই দ্রুত গতিতে বাইক ছুটিয়ে চম্পট দেয় তারা।
সিসিটিভি ফুটেজেই মিলল সূত্র
প্রকাশ্য দিবালোকে এমন দুর্ধর্ষ কাণ্ড ঘটিয়ে পার পাওয়া যায়নি। পুরো অপরাধের খতিয়ানটি নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছিল পেট্রোল পাম্পের সিসিটিভি ক্যামেরায়। ঘটনার পরপরই পাম্পের পক্ষ থেকে সিন্ধোরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তে নামতেই অপরাধীদের পরিচয় সামনে আসে। জানা যায়, অভিযুক্তরা ওই স্থানীয় এলাকারই বাসিন্দা।
অবশেষে পুলিশের জালে দুষ্কৃতীরা
তদন্তে নেমে বারাণসী পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে বিবেক ওরফে গোলু উপাধ্যায় এবং তার সহযোগী শনি সিং নামের দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত সেই নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেল এবং একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশি রেকর্ডে জানা গেছে, ধৃত বিবেকের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার এবং দ্রুত টাকা ছাড়াই সুবিধা ভোগ করার মানসিকতা থেকেই এই ধরনের বেপরোয়া অপরাধের ঘটনা ঘটছে। তবে প্রকাশ্য স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে এই অপরাধীরা পার পায়নি, যা স্থানীয় এলাকায় অপরাধ দমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুরো ঘটনার আরও বিস্তর তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।