ভোটের লড়াই থেকে সরলেন তৃণমূল প্রার্থী, কড়া নিরাপত্তায় ফলতায় চলছে পুনর্নির্বাচন

ভোটের লড়াই থেকে সরলেন তৃণমূল প্রার্থী, কড়া নিরাপত্তায় ফলতায় চলছে পুনর্নির্বাচন

গত ২৯ এপ্রিলের সাধারণ ভোটগ্রহণের পর, নানা অনিয়মের অভিযোগে আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা আসনে চলছে পুনর্নির্বাচন। বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। তবে এবারের ভোটের সবচেয়ে বড় চমক হলো, ভোটের মূল লড়াই থেকেই কার্যত অদৃশ্য রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

ইভিএমে নাম থাকলেও ময়দানে নেই ঘাসফুল

ভোট শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে তিনি আর নেই। রাজনৈতিক মহলের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলেও আইনি জটিলতায় ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) থেকে তাঁর নাম বা প্রতীক সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে ব্যালট ইউনিটে তৃণমূলের প্রতীক থাকলেও বাস্তবে ফলতার লড়াই এখন মূলত বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক রূপ নিয়েছে। এর ফলে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

কেন এই পুনর্নির্বাচন

এবারের ছাব্বিশের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে বাংলাজুড়ে তুলনামূলকভাবে শান্ত ও রক্তপাতহীন ভোটপ্রক্রিয়া দেখা গেছে। তবে ২৯ এপ্রিল ফলতার বেশ কিছু বুথ থেকে গুরুতর কারচুপির অভিযোগ ওঠে। ভোটারদের অভিযোগ ছিল, ইভিএমের নির্দিষ্ট কিছু বোতামে টেপ এবং আতর লাগিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষ অবাধে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন বুথগুলোর ওয়েব কাস্টিং ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা পায় এবং ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র চাদরে ফলতা

পূর্বের গোলযোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ গোটা ফলতা এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছে কমিশন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে মোট ৩৫ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি বুথের সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে এক সেকশন করে কেন্দ্রীয় জওয়ান। এছাড়া সবকটি বুথেই রাখা হয়েছে লাইভ ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। সকাল থেকেই বুথগুলোর সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন লক্ষ্য করা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *