ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায় ও হাসপাতালের রক্তের দাগ, রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের মুখোশ খুলল ভারত

আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে আরও একবার মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের যাবতীয় ভারত-বিরোধী প্রচারকে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল নয়া দিল্লি। বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক বিতর্কে কাশ্মীর নিয়ে পাক প্রতিনিধির মন্তব্যের জবাবে ভারতের পক্ষ থেকে ধেয়ে যায় নজিরবিহীন ঝাঁঝালো আক্রমণ। ভারত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, যে দেশের হাত নিজেদের নাগরিকদের রক্তে রাঙানো এবং যাদের ইতিহাস নৃশংস গণহত্যার কলঙ্কে লিপ্ত, তাদের মুখে কাশ্মীরের মতো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা চরম ভন্ডামি ও দ্বিচারিতা মাত্র।
আফগান হাসপাতালে পাক বিমান হামলার নথিভুক্ত প্রমাণ
আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানের ‘শান্তি’ ও ‘আইন’ রক্ষার বুলির আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল রূপটি উন্মোচন করতে ভারত তুলে ধরে অতি সাম্প্রতিক এক নারকীয় ঘটনা। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পারভাথানেনি জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে পবিত্র রমজান মাসের আধ্যাত্মিক আবহের মধ্যেই আফগানিস্তানের কাবুলের ‘ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল’-এ বর্বর বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান।
রাষ্ট্রপুঞ্জের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন বা ‘ইউনামা’ (UNAMA)-র সরকারি রিপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে ভারত জানায়, রাতের অন্ধকারে চালানো এই কাপুরুষোচিত হামলায় ২৬৯ জন নিরীহ চিকিৎসাধীন মানুষ ও সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১২২ জন। সন্ধ্যকালীন তারাবি নমাজ শেষে মানুষ যখন মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই হামলা চালানো হয়। একটি চিকিৎসা কেন্দ্রকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ভারত জানায়, পাকিস্তানের এই লাগাতার সীমান্ত পারের সশস্ত্র হিংসার জেরে ৯৪ হাজারেরও বেশি আফগান নাগরিক নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
একাত্তরের নারকীয় গণহত্যার স্মারক
পাকিস্তানের অতীত চরিত্রের অন্ধকার দিকটি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ভারত সরাসরি টেনে আনে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি ফৌজ যে সুপরিকল্পিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক গণহত্যা ও নির্যাতন চালিয়েছিল, তা নিরাপত্তা পরিষদের সমস্ত সদস্য দেশের সামনে পুনরুল্লেখ করা হয়।
ভারতের পক্ষ থেকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, ১৯৭১ সালে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে পাকিস্তানের নিজস্ব সেনাবাহিনী প্রায় ৪ লক্ষ নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ চালিয়েছিল। এটি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট ‘জেনোসাইডাল ক্যাম্পেন’ বা সুপরিকল্পিত গণনিধন। নিজের দেশের মানুষের ওপর এমন নৃশংসতা চালানো দেশের মুখে আন্তর্জাতিক আইনের বুলি কোনোভাবেই মানায় না বলে তোপ দাগে নয়া দিল্লি।
প্রভাব ও কূটনৈতিক বার্তা
ভারতের এই তথ্যসমৃদ্ধ ও কঠোর অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ছদ্মবেশী শান্তির বার্তার অসারতা প্রমাণিত হলো। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করতে এবং বৈশ্বিক নজর ঘোরাতে পাকিস্তান বারবার যে সীমান্ত পারের সন্ত্রাস ও কাশ্মীর ইস্যুকে হাতিয়ার করতে চায়, ভারতের এই প্রত্যাঘাতে সেই চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো। এই তীক্ষ্ণ জবাবের মাধ্যমে নয়া দিল্লি বিশ্বমঞ্চে আরও একবার সুষ্পষ্ট বার্তা দিল যে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের নাক গলানোর কোনো আইনি বা নৈতিক অধিকার নেই।