মোদি-মেলোনি ‘মিষ্টি কূটনীতি’তে বিশ্বমঞ্চে বাজিমাত! ‘মেলোডি’ টফির চাহিদা বাড়তেই বিরাট ঘোষণা পার্লে-কর্তার

বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর মেয়াদ বৃদ্ধি, চাণক্যের সাফল্যের ৪ মন্ত্র এবং নদিয়ার শান্তিপুরে পকসো মামলা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই, আন্তর্জাতিক কূটনীতির অলিন্দ থেকে উঠে এল এক অত্যন্ত মিষ্টি ও মন ভালো করা খবর। ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ভারতের জনপ্রিয় ‘মেলোডি’ (Melody) টফি উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর প্রধানমন্ত্রীর এই ‘মিষ্টি কূটনীতি’র সৌজন্যে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ভারতীয় চকোলেট ব্র্যান্ডটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদি ও মেলোনির নাম মিলিয়ে তৈরি হওয়া ‘Melodi’ হ্যাশট্যাগকে যেন এক লহমায় বাস্তবের রূপ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই অভাবনীয় আন্তর্জাতিক প্রচারে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত প্রস্তুতকারক সংস্থা পার্লে প্রোডাক্টস (Parle Products)।
সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট ময়াঙ্ক শাহ এই মেগা উপহার প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন এবং ‘মেলোডি’ টফিকে নিয়ে তাঁদের আগামী দিনের বিশ্বজোড়া পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
আমরা সম্পূর্ণ অবাক ও আনন্দিত: ময়াঙ্ক শাহ
একটি সাধারণ চকোলেট যে আন্তর্জাতিক স্তরের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উপহার হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে, তা পার্লে কর্তৃপক্ষের কাছেও ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। সাক্ষাৎকারে ময়াঙ্ক শাহ বলেন:
“প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে ইটালির প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের মেলোডি টফি উপহার দেবেন, সে বিষয়ে আগে থেকে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না। আমরা খবরটি শুনে সম্পূর্ণ অবাক, তবে ভীষণভাবে আনন্দিত। আমাদের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রীকে অন্তরের ধন্যবাদ, কারণ তিনি এই ব্র্যান্ডটিকে এক ধাক্কায় বিশ্বমঞ্চের দরবারে তুলে ধরেছেন।”
অনলাইন ও কুইক কমার্সে চাহিদার সুনামি, ২০০ দেশে রফতানি
পার্লে কর্তার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এই উপহারের খবর চাউর হতেই দেশজুড়ে বিভিন্ন অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ও কুইক কমার্স অ্যাপে (Quick Commerce Apps) ‘মেলোডি’ টফি কেনার ধুম পড়ে গেছে। সকাল থেকেই বিক্রির গ্রাফে বিপুল ট্র্যাকশন লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং আগামী দিনে এই চাহিদার গতি আরও বাড়বে বলেই আশা করছে সংস্থা।
ইতিমধ্যেই ‘মেলোডি’ ভারতের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া টফি ব্র্যান্ডের অন্যতম। তবে এই আন্তর্জাতিক প্রচারের পর বিদেশের বাজারেও এর বিক্রি কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বিশ্বের ২০০-রও বেশি দেশে ‘মেলোডি’ রফতানি করা হয়। ময়াঙ্ক শাহ জানান, মোদি-মেলোনি সাক্ষাতের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে বিদেশের বাজারে আরও বড় আকারে প্রবেশ করার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে এবার স্থানীয়ভাবে উৎপাদন (Local Production) শুরু করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পার্লে।
চকলেটি স্বাদ একই থাকবে, বাড়ছে না দাম
চাহিদা আকাশছোঁয়া হলেও আপাতত সাধারণ মানুষের পকেটের কথা ভেবে চকোলেটের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পার্লে-কর্তা। পণ্যের স্বাদ বা পরিচয়েও কোনো বদল আনা হবে না। শাহ হাসতে হাসতেই ব্র্যান্ডের সেই আইকনিক ও জনপ্রিয় ট্যাগলাইন স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “মেলোডি মানেই সেই চকলেটি স্বাদ। এটা একটা ক্লাসিক ব্র্যান্ড, আমরা এর ঐতিহ্য বজায় রাখতে চাই। কারণ সবাই জানে— মেলোডি খাও, খুদ জান যাও!” একই সঙ্গে শেয়ার বাজারে পার্লে প্রোডাক্টসের তালিকাভুক্তি বা আইপিও (IPO) আনার দীর্ঘদিনের জল্পনাও এদিন পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
একদিকে যখন ডবল ইঞ্জিন সরকারের জমানায় রাজ্যে ২০ জুন পর্যন্ত ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার ছাড়পত্র দিয়েছে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং ভাটপাড়া-হালিশহরে ধস রুখতে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— সেই চিরপরিচিত রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তর্জাতিক ‘মিষ্টি কূটনীতি’ ভারতের একটি প্রাচীন ও ঘরোয়া ব্র্যান্ডকে রাতারাতি গ্লোবাল ট্রেন্ডে পরিণত করল, যা নিঃসন্দেহে ভারতীয় শিল্পের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত।