সরকারি বাসে চড়লেই মহিলাদের সফর বিনামূল্যে? সঙ্গে রাখতে হবে এই ১০টি পরিচয়পত্রের যেকোনো একটি

ডিজিটাল ‘আরশোলা’ আন্দোলন নিয়ে দিল্লিতে আইটি আইনের কড়াকড়ি এবং কলকাতা পুরসভার অন্দরে তৃণমূলের ‘ক্লাব রুম’ অধিবেশন বিতর্কের মাঝেই, রাজ্যের সাধারণ মহিলা যাত্রীদের জন্য এক মস্ত বড় ও স্বস্তিদায়ক খবর সামনে এল। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে হেঁটে আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালু করতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। দূরপাল্লার সরকারি বাসগুলিতেও এই বিশেষ সুবিধা মিলবে। তবে বাসে উঠলেই যে কোনো মহিলা এই সুবিধা পাবেন, বিষয়টি তেমন নয়। বিনামূল্যে সফরের সুবিধা পেতে মহিলা যাত্রীদের সঙ্গে রাখতে হবে নির্দিষ্ট কিছু পরিচয়পত্র। শুক্রবার এই বিষয়ে রাজ্য পরিবহণ দফতরের তরফ থেকে নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত ধোঁয়াশা স্পষ্ট করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা (SBSTC ও NBSTC)-র বাসগুলিতে আগামী মাসের শুরু থেকেই এই নয়া বিধি কার্যকর হতে চলেছে। তবে জল্পনা এড়াতে রাজ্য পরিবহণ নিগম স্পষ্ট জানিয়েছে, বিনামূল্যে ভ্রমণের জন্য মহিলা যাত্রীদের ১০টি নির্দিষ্ট সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্রের মধ্যে যেকোনো একটি প্রমাণপত্র কন্ডাক্টরকে দেখাতে হবে।
তালিকায় থাকা ১০টি প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র:
১. ভোটার কার্ড (Voter ID)
২. ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License)
৩. প্যান কার্ড (PAN Card)
৪. ভারতীয় পাসপোর্ট (Indian Passport)
৫. ডিজিটাল রেশন কার্ড বা জব কার্ড (Job Card)
৬. আয়ুষ্মান ভারত কার্ড
৭. পেনশন সংক্রান্ত নথি (Pension Document)
৮. রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি চাকুরিজীবীদের সার্ভিস আই কার্ড
৯. পাবলিক লিমিটেড কো ম্পা নির বৈধ পরিচয়পত্র
১০. আধার কার্ড
কীভাবে মিলবে এই সুবিধা?
উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (NBSTC)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিল্লাই জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন ২০২৬ ভোরবেলা থেকে যে সমস্ত সরকারি বাস নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে, সেখান থেকেই এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হয়ে যাবে।
পরিষেবা পাওয়ার পদ্ধতিটি হবে অত্যন্ত সহজ:
- পরিচয়পত্র যাচাই: বাস ছাড়ার পর কন্ডাক্টর যখন টিকিট কাটার জন্য যাত্রীদের কাছে যাবেন, তখন সংশ্লিষ্ট মহিলা যাত্রীকে ওপরে উল্লিখিত ১০টি পরিচয়পত্রের মধ্যে যেকোনো একটি আসল নথি বা প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।
- বাসিন্দার প্রমাণ: এই পরিচয়পত্রগুলির মাধ্যমে কন্ডাক্টর নিশ্চিত করবেন যে সংশ্লিষ্ট মহিলা যাত্রী পশ্চিমবঙ্গেরই স্থায়ী বাসিন্দা।
- ‘জিরো ফেয়ার’ টিকিট: পরিচয়পত্র যাচাইকরণ সফল হলে, বাসের ইলেকট্রনিক টিকিট মেশিন (ETM) থেকে ওই মহিলা যাত্রীকে সম্পূর্ণ শূন্য মূল্যের বা ‘জিরো ফেয়ার’ (Zero Fare) একটি বৈধ টিকিট প্রিন্ট করে দেওয়া হবে। এই টিকিটের জন্য যাত্রীকে কোনো টাকা দিতে হবে না, তবে ভ্রমণের প্রমাণ হিসেবে এটি কাছে রাখা বাধ্যতামূলক।
কোচবিহারে সদর দফতর থাকা এনবিএসটিসি-র অধীনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচশো থেকে ছয়শো বাস বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। দক্ষিণবঙ্গে এসবিএসটিসি-র বাসের সংখ্যাও বিপুল। পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের মতে, ১ জুন থেকে এই দুই সরকারি নিগমের বাসে দৈনিক লক্ষাধিক মহিলা যাত্রী উপকৃত হবেন। একদিকে যখন আসানসোলে বেআইনি তৃণমূল কার্যালয় ভাঙা এবং হাওড়ায় বুলডোজার নীতির বিরুদ্ধে তৃণমূলকে মিছিলের অনুমতি না দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, ঠিক অন্যদিকে নতুন সরকারের এই ‘মহিলাদের নিখরচায় বাস সফর’ নীতি রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।