মামলা জিতুক চান না! বিকাশদাকে নিয়ে শতরূপের অকপট স্বীকারোক্তি

মামলা জিতুক চান না! বিকাশদাকে নিয়ে শতরূপের অকপট স্বীকারোক্তি

প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বাম শিবিরের অন্দরেই ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলের একাংশের আপত্তির মাঝেই এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা অন্যতম মুখপাত্র শতরূপ ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, দলের প্রবীণ নেতার পেশাদারিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি চান এই নির্দিষ্ট মামলায় যেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য হেরে যান এবং অভিযুক্তরা শাস্তি পান।

শতরূপের আবেগ এবং দলের নীচুতলার ক্ষোভ

নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সারদা কাণ্ড, দীর্ঘদিন ধরে শাসকদলের বিরুদ্ধে বহু মামলায় আইনি লড়াই করে বাম কর্মীদের কাছে ভরসার মুখ হয়ে উঠেছিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। কিন্তু এবার দলীয় লাইন টপকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে চিহ্নিত তৃণমূল দম্পতির হয়ে তাঁর আদালতে দাঁড়ানো মেনে নিতে পারছেন না অনেক কর্মীই। শতরূপ ঘোষ জানিয়েছেন, অতীতে রাজারহাট ও বাগুইআটি এলাকায় সিপিএম কর্মীদের ওপর দেবরাজ চক্রবর্তীর অনুগামীদের চালানো নানাবিধ অত্যাচারের ঘটনা কর্মীরা ভোলেননি। আক্রান্ত কমরেডদের আবেগ এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার টানেই তিনি মনে-প্রাণে প্রবীণ আইনজীবীর পরাজয় কামনা করছেন, যাতে অভিযুক্তরা আইনি সুবিধা না পান।

আইনজীবীর পেশাগত ধর্ম ও বিকাশের যুক্তি

এই বিতর্কের জবাবে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য নিজের আইনি পেশাদারিত্ব ও নৈতিক অবস্থানকে ঢাল করেছেন। তাঁর মতে, একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে তাঁর কাছে আসা কোনো বিচারপ্রার্থীকে রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের ভিত্তিতে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। অতীতেও তিনি মুকুল রায় বা সব্যসাচী দত্তের মতো দলবদলু নেতাদের মামলা লড়েছেন। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো আপস না করার কথা স্পষ্ট করে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে যারা আসছেন তাঁরা চুনোপুঁটি এবং দর্শনগত তীব্র বিরোধ না থাকলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা তাঁর কর্তব্য।

সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন

তৃণমূল নেতাদের হয়ে সিপিএমের এক শীর্ষ নেতার মামলা লড়ার এই ঘটনাটি বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন আলিমুদ্দিনের অন্দরে পেশাগত স্বাধীনতা বনাম দলীয় শৃঙ্খলার চিরন্তন বিতর্কটি নতুন করে মাথাচাড়া দিল, অন্যদিকে তেমনই শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেদের যে তীব্র আন্দোলনের ঝাঁজ, তা নীচুতলার কর্মীদের কাছে কিছুটা হলেও ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *