“শুভেন্দু চলে যাওয়ার পর ভেঙে পড়লেন পার্থ! হঠাৎ কেন বললেন ‘খুব কষ্ট হচ্ছে’?”

“শুভেন্দু চলে যাওয়ার পর ভেঙে পড়লেন পার্থ! হঠাৎ কেন বললেন ‘খুব কষ্ট হচ্ছে’?”

নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর এবার তৃণমূল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একসময়ের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুখে শোনা গেল তীব্র সমালোচনার সুর। দলের স্ট্র্যাটেজি ও বর্তমান নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জেলবন্দি এই প্রাক্তন মন্ত্রী।

নেত্রীর অন্ধ স্নেহ ও দল ছাড়ার হিড়িক

দলের বিপর্যয়ের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন বর্তমান নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে। মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারীর দল ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “শুভেন্দু চলে গেল, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আজকের শাসক দলের অধিকাংশ মুখই আমাদের প্রাক্তন সহকর্মী। তাঁদের আটকালো কে? একজনের জন্য সবাই চলে যাবে, আর শুধু একজন থাকবে?” এই পরিস্থিতির জন্য নেত্রীর ‘অন্ধ স্নেহ’ ও ‘অন্ধ ভালোবাসা’ কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিকল্পহীনতা ও সাংগঠনিক ক্ষয়

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প এখনও তৃণমূল তৈরি করতে পারেনি। বর্তমান নেতৃত্বের আচরণ ও শরীরী ভাষা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “দক্ষিণী কায়দায় গাড়ির ওপর হাত নাড়ানো বা ভাষার ব্যবহার—যেটা দিদির শোভা পায়, সেটা অন্যদের শোভা পায় না।” একই সঙ্গে ৪১ শতাংশ ভোট পাওয়াকে সাফল্যের গান হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, দলে ক্ষয় হয়েছে এবং দ্রুত নেত্রীর যোগ্য উত্তরাধিকার খোঁজা উচিত ছিল, যা শিবসেনা বা স্টালিনরা বুঝলেও তৃণমূল বোঝেনি।

নেতৃত্বের ভুল নীতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

সাংগঠনিক স্তরে শওকত মোল্লা বা আরাবুল ইসলামের মতো নেতাদের সরিয়ে দেওয়ার কৌশলকে ভুল বলে উল্লেখ করেছেন পার্থ। ঝাড়গ্রাম, নদিয়া ও কোচবিহারের মতো জেলাগুলোতে দলের খারাপ ফলের দিকে আঙুল তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ভোটের পর তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল এবং নেতৃত্ব সংকটকে আরও প্রকাশ্য এনে দিল, যা আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরে বড়সড় চাপানউতোর তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *