জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সরাসরি শুনলেন সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ

মানুষের মনের কথা সরাসরি জানতে ফের ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এদিন পার্শ্বশিক্ষক, নার্স, গ্রুপ ডি কর্মী থেকে শুরু করে ভোট হিংসায় আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অভাব-অভিযোগ ও আর্জি জানাতে আসেন। বেলা ১১টা নাগাদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে সাধারণ মানুষের সমস্যা ও চিঠিপত্র গ্রহণ করেন।
অভিযোগের পাহাড় ও মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসা চাকরিহারা এবং সাধারণ নাগরিকরা বিগত সরকারের উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। চাকরিহারা এক আবেদনকারী জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে তাঁদের কথা শোনার মতো কেউ ছিল না, কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্বচ্ছ নিয়োগের আশ্বাস দিচ্ছেন। এছাড়াও আবাসন প্রতারণার শিকার হওয়া এক অশীতিপর বৃদ্ধ দম্পতিও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পেয়েছেন। প্রতি সোমবার এই ‘জনতার দরবার’ আয়োজিত হবে এবং এর জন্য আগে থেকে নাম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
জনতার দরবার শেষ করেই মুখ্যমন্ত্রী সল্টলেকের কার্যালয় থেকে সরাসরি নবান্নের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে সমস্ত দপ্তরের সচিব এবং উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে যেমন আমজনতার সঙ্গে সরকারের দূরত্ব কমবে, অন্যদিকে তেমনই তৃণমূল স্তরের দুর্নীতি ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বাস্তব চিত্রটি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আসবে। এর ফলে আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হওয়ার পাশাপাশি জনমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।