আকাশ সিংয়ের পর এবার সানি মোল্লা! সাঁকরাইলে আন্ডারওয়ার পরিয়ে ‘তৃণমূলের ছোটা ডন’কে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আকাশ সিংয়ের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হাওড়ার সাঁকরাইলে ঘটল একই ধরনের নজিরবিহীন ঘটনা। এলাকায় ‘তৃণমূলের ছোটা ডন’ হিসেবে পরিচিত এবং পেশায় হোমগার্ড সানি মোল্লাকে শুধু অন্তর্বাস (গেঞ্জি ও আন্ডারওয়ার) পরিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় প্যারেড করাল পুলিশ। এলাকায় হুমকি, তোলাবাজি এবং সাধারণ মানুষের ওপর সন্ত্রাস চালানোর গুরুতর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করার পর রবিবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই সানিকে রাস্তায় ঘোরানোর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হতে শুরু করেছে, যা নিয়ে জেলা জুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
তোলাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব চালানোর অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সানি মোল্লা আদতে পুলিশ প্রশাসনেরই একজন হোমগার্ড কর্মী হলেও, এলাকায় সে নিজেকে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা এবং ‘ছোটা ডন’ হিসেবে পরিচয় দিত। তার বিরুদ্ধে সাঁকরাইল ও সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ী, প্রোমোটার এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাগাতার মোটা অঙ্কের টাকা তোলাবাজি করার অভিযোগ আসছিল। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং এলাকায় দলবল নিয়ে ব্যাপক সন্ত্রাস ছড়ানোর একাধিক মামলা রুজু হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর পুলিশ এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সক্রিয় হয়ে সানিকে গ্রেপ্তার করে।
প্রকাশ্য রাস্তায় অন্তর্বাস পরে প্যারেড, ভাইরাল ভিডিও
রবিবার দুপুরে অভিযুক্ত সানি মোল্লাকে একদম হালকা পোশাকে, অর্থাৎ কেবল গেঞ্জি ও আন্ডারওয়ার পরিয়ে সাঁকরাইলের মূল রাস্তায় হাঁটায় পুলিশ। অপরাধীদের মনে ভয় ধরাতে এবং সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেই এই কড়া পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে ঘোরানোর পরও ওই তৃণমূল নেতার মুখে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা লজ্জার কোনো ছাপ দেখা যায়নি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, অপরাধের জন্য লজ্জিত হওয়া তো দূরস্ত, বরং উপস্থিত জনতার দিকে তাকিয়ে দিব্যি হাসিমুখে হাঁটছে সে।
আইনশৃঙ্খলায় ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা প্রশাসনের
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বিগত সরকারের আমলে এই ধরনের দুষ্কৃতীরা পুলিশের একাংশকে হাত করে সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছিল, এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার আসায় অপরাধীদের আসল জায়গা দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, সে কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকুক বা খোদ পুলিশ বিভাগের কর্মী হোক। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিলে আগামী দিনেও এই ধরনের দৃষ্টান্তমূলক ও কড়া ব্যবস্থা জারি থাকবে।