অবশেষে কাটছে জট, মঙ্গলেই বিধানসভায় ঘর পেতে পারেন বিরোধী দলনেতা-সহ তৃণমূল বিধায়করা

দীর্ঘ টানাপোড়েন ও জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্য বিধানসভায় ঘর পেতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। বিধানসভার সচিবালয়ের পক্ষ থেকে তৃণমূলের চিঠির ইতিবাচক জবাব মেলায় এই ইঙ্গিত মিলেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকালের মধ্যেই বিরোধী দলের বিধায়কদের জন্য নির্দিষ্ট ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হতে পারে।
জটিলতার সূত্রপাত ও কারণ
সম্প্রতি বিধানসভায় তৃণমূলকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া এবং তাঁদের জন্য ঘর বরাদ্দ করা নিয়ে তীব্র জটিলতা তৈরি হয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর করা একটি চিঠিতে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিধানসভার সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সচিবালয় এবং অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই চিঠি পরিষদীয় রীতিকে মান্যতা দেয় না। নিয়ম অনুযায়ী, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের চিঠির পাশাপাশি পরিষদীয় দলের বিধায়কদের স্বাক্ষর করা রেজোলিউশন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যথাযথ নিয়ম না মানায় ঘর বরাদ্দ আটকে যায়, যার প্রতিবাদে তৃণমূল বিধায়করা স্পিকারের ঘরের সামনে ধরনায় বসেন। পরবর্তীতে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে সমস্ত নিয়ম মেনে বিধায়কদের স্বাক্ষরসহ নতুন চিঠি জমা দেওয়া হয়।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
তৃণমূলের নতুন আবেদনের পর বিধানসভা সচিবালয় জানিয়েছে যে, আজই অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু বিধানসভায় এসে তৃণমূলের আর্জি ও পরিষদীয় দলের রেজোলিউশন খতিয়ে দেখবেন। নিয়মমাফিক সমস্ত প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন অধ্যক্ষ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জট কেটে যাওয়ার ফলে বিধানসভার অন্দরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যকার সাময়িক অচলবস্থা দূর হবে। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল বিধায়কদের জন্য নির্দিষ্ট ঘর খুলে দিলে তাঁরা যেমন প্রাতিষ্ঠানিক কাজকর্ম সুচারুভাবে পরিচালনা করতে পারবেন, তেমনই বিধানসভার স্বাভাবিক সংসদীয় পরিবেশও বজায় থাকবে।