গেইলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার হুংকার ১৫ বছরের বিস্ময়-বালক বৈভবের

গেইলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার হুংকার ১৫ বছরের বিস্ময়-বালক বৈভবের

সাধারণত পনেরো বছর বয়সে একজন ক্রিকেটারের মূল লক্ষ্য থাকে সিনিয়র দলে নিজের জায়গা পাকা করা। কিন্তু রাজস্থান রয়্যালসের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী যেন একেবারেই অন্য ধাতুতে গড়া। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে তাঁর লক্ষ্য এখন আকাশছোঁয়া। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি ক্রিস গেইলকে। মনের কোণে লুকিয়ে রাখা কোনো ইচ্ছা নয়, বরং প্রকাশ্যে ঘোষণা করে বৈভব জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিনি এবার দ্বিশতরান হাঁকাতে চান।

সম্প্রতি কেভিন পিটারসেনের একটি ইউটিউব শো-তে হাজির হয়ে নিজের এই অবিশ্বাস্য স্বপ্নের কথা জানান বৈভব। দ্রুত হাফসেঞ্চুরি করার পর উদযাপনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এই তরুণ তুর্কি বেশ ঠান্ডা মাথায় উত্তর দেন, ‘না, অতটাও নয়। আমি টি-টোয়েন্টিতে ২০০ করতে চাই। গেইলের রেকর্ড ভাঙতে চাই।’ ২০১৩ সালে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে গেইলের খেলা ৬৬ বলে অপরাজিত ১৭৫ রানের ইনিংসটিই এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। ক্রিকেটবিশ্বের কাছে যা এক রূপকথা, ১৫ বছরের বৈভবের কাছে তা-ই এখন মূল ‘টার্গেট’।

রেকর্ডের রাজপুত্র ও রাজস্থানের সেরা বাজি

২০২৫ সালের মেগা নিলামে বৈভব সূর্যবংশীকে এক কোটি টাকারও বেশি মূল্যে দলে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। তৎকালীন সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজির এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ মনে করলেও, চলমান আইপিএলে মাঠের পারফরম্যান্সে তার যথার্থতা প্রমাণ করছেন এই তরুণ। এবারের মরসুমে ১৪ ম্যাচে ৪১.৬৪ গড় এবং ২৩২.২৭ এর বিধ্বংসী স্ট্রাইক রেটে বৈভব ইতিমধ্যে ৫৮৩ রান সংগ্রহ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে একটি শতরান ও তিনটি অর্ধশতরান।

শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটেই নয়, বৈভবের রেকর্ডের খাতা আন্তর্জাতিক স্তরেও সমান উজ্জ্বল। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে প্রায় ১৭০ স্ট্রাইক রেটে ৪৩৯ রান করেছিলেন তিনি, যেখানে ছিল টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বাধিক ৩০টি ছক্কা। এছাড়া ভারতের হয়ে ছোটদের একদিনের ক্রিকেটে ২৫ ইনিংসে ৫৬.৪৮ গড়ে ১৪১২ রান করে সর্বোচ্চ রানের মালিকও এখন তিনি। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব-১৯ টেস্টে ৫৮ বলে শতরান, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান কিংবা বিজয় হাজারে ট্রফিতে ১৯০ রানের ইনিংস—ক্রমাগত নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙে চলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

গেইলের সিংহাসনে টান ও সম্ভাব্য প্রভাব

বৈভবের এই আত্মবিশ্বাসের মূল জ্বালানি হলো তাঁর সাম্প্রতিক অতিমানবীয় ফর্ম এবং ছক্কা মারার সহজাত দক্ষতা। চলতি আইপিএল মরসুমে তিনি ইতিমধ্যে ৫৩টি ছক্কা হাঁকিয়ে এক মরসুমে যেকোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বাধিক ওভার বাউন্ডারির রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। ২০১২ সালে গেইলের গড়া এক মরসুমে ৫৯টি ছক্কার সর্বকালীন রেকর্ড স্পর্শ করতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ৭টি ছক্কা। এর আগে গত বছর গুজরাতের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম ভারতীয় শতকধারী এবং সবচেয়ে কম বয়সি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিয়ানের গৌরব লাভ করেন তিনি।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈভবের এই আগ্রাসী ব্যাটিং শৈলী এবং নির্ভীক মানসিকতা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। পাওয়ার-প্লে-র সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং বোলারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার যে দক্ষতা তিনি দেখাচ্ছেন, তা আগামী দিনে রাজস্থান রয়্যালসকে যেমন বড় স্কোরের নিশ্চয়তা দেবে, তেমনই ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ব্যাটিং লাইন-আপকে এক নতুন মাত্রা প্রদান করবে। গেইলের ১৭৫ রানের রেকর্ড ভাঙা কিংবা টি-টোয়েন্টিতে প্রথম দ্বিশতরানের মাইলফলক স্পর্শ করা এখন আর অবাস্তব কল্পনা নয়, বরং বৈভবের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওপর দাঁড়িয়ে এক প্রবল সম্ভাবনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *