সব বাধা কেটে রাজভবনে শপথের প্রস্তুতি, শুভেন্দু মন্ত্রিসভায় চমকের অপেক্ষা!

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে ২০৮টি আসন নিয়ে বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম দফায় তাঁর সঙ্গে মাত্র ৫ জন মন্ত্রী দায়িত্ব নিলেও গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রিসভার বাকি পদগুলি ফাঁকাই রাখা হয়েছিল। কেন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। অবশেষে দিল্লির সবুজ সংকেত মিলতেই সেই জল্পনার অবসান ঘটতে চলেছে এবং পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে চলেছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মন্ত্রিসভা।
কৌশলী পদক্ষেপে অগ্রাধিকার কাজের
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিন থেকেই জাঁকজমক বা দ্রুত মন্ত্রিসভার বহর না বাড়িয়ে মানুষের আস্থা অর্জনে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে দেওয়া ইস্তাহারের মূল প্রতিশ্রুতিগুলি দ্রুত কার্যকর করাই ছিল তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য। প্রথম দুই সপ্তাহে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা রূপায়ণ, একশ দিনের কাজ শুরু করা এবং সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছ নিয়োগের বিষয়ে স্পষ্ট দিশানির্দেশ দিয়েছে নতুন সরকার। প্রশাসনিক স্তরে এই জরুরি বার্তা ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলি স্পষ্ট করার পরই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের চূড়ান্ত ধাপে হাত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভারসাম্য রক্ষায় মাল্টি-ফ্যাক্টর সমীকরণ
নতুন মন্ত্রীদের সম্ভাব্য তালিকায় রাজ্য বিজেপির একাধিক পরিচিত ও হেভিওয়েট মুখ থাকা একপ্রকার নিশ্চিত। রাজনৈতিক মহলে তাপস রায়, স্বপন দাশগুপ্ত, শঙ্কর ঘোষ এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নাম সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে এবারের মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নামের পরিচিতি নয়, বরং তিনটি মূল সমীকরণকে মাথায় রাখছে পদ্ম শিবির। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল থেকে রাঢ়বঙ্গের ভৌগোলিক ভারসাম্য রক্ষা, প্রশাসনিক কাজ সামলানোর মতো দক্ষতা ও শিক্ষাগত মান এবং বাংলার সামাজিক ও জাতিগত সমীকরণকে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অভিজ্ঞতার অভাব ও প্রত্যাশার চাপ সামলানোর চ্যালেঞ্জ
রাজ্যে ২০৮ জন বিধায়ক জয়ী হওয়ায় অনেকের মনেই মন্ত্রী হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অনেক জেলায় একাধিক বিধায়কের রাজনৈতিক যোগ্যতা প্রায় সমপর্যায়ের হওয়ায় কাকে বেছে নেওয়া হবে তা ছিল এক মস্ত বড় পরীক্ষা। এর পাশাপাশি বিজেপির নতুন বিধায়কদের একটি বড় অংশেরই অতীতে পঞ্চায়েত বা পুরসভাতেও কাজ করার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নেই। মন্ত্রিসভা গঠনের পর যাতে কোনও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি না হয়, তার জন্য নিখুঁত স্ক্রিনিং করতে এই বাড়তি সময় নেওয়া হয়েছে।
চূড়ান্ত রদবদলের পর বর্তমানে দায়িত্বে থাকা পুরোনো ৫ মন্ত্রীর হাতে কেবলমাত্র একটি করে বড় দফতর রাখা হতে পারে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের হাতে থাকবে স্বরাষ্ট্র দফতরসহ মোট ৪টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব। নির্দিষ্ট আসন সংখ্যার কারণে কিছু নেতার ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, সংগঠনকে মজবুত করতে সরকারের বাইরেও বড় দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের।