বুধবারই আসছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম, এবার মা ক্যান্টিনে মাত্র ৫ টাকায় মিলবে মাছ-ভাত!

বুধবারই আসছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম, এবার মা ক্যান্টিনে মাত্র ৫ টাকায় মিলবে মাছ-ভাত!

রাজ্যের সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোতে বড়সড় পরিবর্তনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। পূর্বতন জমানার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এ রূপান্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুধবারই এর আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের মুখে সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর আহার তুলে দিতে ‘মা ক্যান্টিন’-এর মেনুতেও আনা হচ্ছে বড় চমক। এখন থেকে মাত্র ৫ টাকায় সপ্তাহে দু’দিন ডিমের পাশাপাশি মিলবে মাছ-ভাত। মঙ্গলবার কল্যাণীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে তিন জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই জোড়া ঘোষণা করেন।

বুধবারই নবান্ন থেকে ফর্ম প্রকাশ, গতি পাচ্ছে নাম নথিভুক্তকরণ

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ এবং ‘স্বাস্থ্য সাথী’কে কেন্দ্রীয় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে রূপান্তরিত করার আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করে দেওয়া হয়েছে। এই নতুন যোজনার আর্থিক সুবিধা পেতে উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে। বুধবার নবান্ন থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে যৌথভাবে এই ফর্মটি প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের বিস্তারিত গাইডলাইনও জারি করা হবে। উপভোক্তাদের দ্রুত নাম নথিভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্পন্ন হবে, সরকারের পক্ষেও তত তাড়াতাড়ি সাধারণ মানুষের কাছে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

পুষ্টি সুরক্ষায় বিশেষ জোর, ৫ টাকার ক্যান্টিনে ভোলবদল

প্রশাসনিক বৈঠক থেকে आमজনতার পুষ্টির কথা মাথায় রেখে ‘মা ক্যান্টিন’ নিয়ে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন এই ক্যান্টিনগুলিতে ৫ টাকায় ডাল-ভাত-সবজির পাশাপাশি ডিম মিললেও, এবার রাজ্যের নতুন সরকারের উদ্যোগে এর পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। এখন থেকে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন মা ক্যান্টিনের মেনুতে মিলবে মাছ-ভাত। তবে খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ বাড়লেও সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর বাড়তি কোনও চাপ পড়ছে না। পূর্বের চেনা দাম অর্থাৎ মাত্র ৫ টাকাতেই দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষ এই মাছ-ভাতের সুবিধা পাবেন।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজ্যের এই জোড়া সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টির মানোন্নয়ন ঘটানো। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে রূপান্তরের মাধ্যমে কল্যাণমূলক প্রকল্পকে আরও সুসংহত ও আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হবে, যা সরাসরি উপভোক্তাদের আর্থিক স্থায়িত্ব দেবে। অন্যদিকে, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মাত্র ৫ টাকায় মাছ-ভাত দেওয়ার সিদ্ধান্তটি দরিদ্র, দিনমজুর ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের প্রাত্যহিক খাদ্য ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *