খেতাবী লড়াইয়ের টিকিট পেতে মরিয়া কোহলি-গিল, আজ ধর্মশালায় মুখোমুখি বেঙ্গালুরু ও গুজরাত

খেতাবী লড়াইয়ের টিকিট পেতে মরিয়া কোহলি-গিল, আজ ধর্মশালায় মুখোমুখি বেঙ্গালুরু ও গুজরাত

আইপিএলের মঞ্চে রাজকীয় দ্বৈরথের ইতিহাস দীর্ঘ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে জমজমাট ও রোমাঞ্চকর লড়াই হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম গুজরাত টাইটান্সের ম্যাচ। আজ, মঙ্গলবার ধর্মশালার মাঠে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই হেভিওয়েট দল। এই ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ জয়ী দল সরাসরি পৌঁছে যাবে আইপিএলের মেগা ফাইনালে। বর্তমান পরিসংখ্যানে দুই দলের অবস্থান এতটাই সমানে-সমানে যে, আজকের ম্যাচটি কার্যত একটি হাই-ভোল্টেজ টাইব্রেকারে পরিণত হয়েছে।

কাঁটায়-কাঁটায় টক্কর ও হেড-টু-হেড রেকর্ড

ইতিহাসের পাতায় দুই দলের পারস্পরিক লড়াইয়ের পরিসংখ্যান এক অবিশ্বাস্য সমতা নির্দেশ করছে। এযাবৎকাল মুখোমুখি হওয়া আটটি ম্যাচের মধ্যে চারটি জিতেছে বেঙ্গালুরু এবং চারটি গুজরাত। কোনো ম্যাচই বৃষ্টিতে ভেসে যায়নি বা অমীমাংসিত থাকেনি। চলতি মরসুমেও দুই দল দু’বার মুখোমুখি হয়ে একটি করে ম্যাচ জিতেছে। রানের দিক থেকে বেঙ্গালুরুর সর্বোচ্চ স্কোর ২০৬ এবং সর্বনিম্ন ১৫৫। অন্যদিকে, গুজরাতের সর্বোচ্চ ২০০ এবং সর্বনিম্ন ১৪৭। ধারাবাহিক আধিপত্যের অভাবই এই দ্বৈরথকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে, যেখানে কোনো পক্ষই অপর পক্ষকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নয়।

তারকাদের ব্যক্তিগত যুদ্ধ ও বোলিং শক্তির পরীক্ষা

এই দ্বৈরথে আরসিবির ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ বিরাট কোহলি, যিনি গুজরাতের বিরুদ্ধে আট ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪৬০ রান করেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত সেরা স্কোর অপরাজিত ১০১। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন ফাফ ডু প্লেসি। অপরদিকে, গুজরাত শিবিরের অধিনায়ক শুভমান গিল ২২৯ রান এবং সাই সুদর্শন ২১৬ রান করে দলের ব্যাটিং লাইনে ভরসা জোগাচ্ছেন। এই দ্বৈরথে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ইনিংসটি অবশ্য শুভমান গিলের (অপরাজিত ১০৪)।

বোলিং বিভাগের লড়াইও বেশ চড়া। গুজরাতের স্পিন জাদুকর রশিদ খান সর্বোচ্চ ৮টি উইকেট নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। পাল্টা আক্রমণে বেঙ্গালুরুর পেসার মহম্মদ সিরাজের ঝুলিতে রয়েছে ৬টি উইকেট। পিচের বাউন্স ও কন্ডিশন বিবেচনায় জশুয়া লিটল, নুর আহমেদ কিংবা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার মতো বোলাররা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন। ধর্মশালার পাহাড়ি হাওয়া আর গতিশীল উইকেটে আজ যে দল স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে পারবে, তারাই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *