কলকাতার মুচিপাড়ায় গভীর রাতে রক্তাক্ত রাজনৈতিক সংঘর্ষ, থমথমে এলাকা

খাস কলকাতার মুচিপাড়া থানা এলাকার মুচি বাজারে বুধবার রাতে এক বিজেপি কর্মীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আক্রান্ত কর্মীর নাম বিপ্লব নাগ, যিনি কলকাতা পুরসভার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
হামলার নেপথ্যে সংবর্ধনা সভার প্রস্তুতি নাকি পুরনো বিবাদ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বিপ্লববাবু কয়েকজন পরিচিতের সঙ্গে এলাকায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই কয়েকজন যুবক লোহার রড নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয় এবং পিছন থেকে বিপ্লববাবুর মাথায় সজোরে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর দাবি, নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আগামী রবিবার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের একটি সংবর্ধনা কর্মসূচি রয়েছে। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েই রাতে দলীয় কর্মীরা আলোচনা করছিলেন এবং এই সভা বানচাল করতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। উল্টো সুর শোনা গেছে ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে-এর গলায়। তাঁর পাল্টা দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং স্থানীয় বিবাদ। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের বুথ এজেন্ট দ্বিপন সাহাকে প্রথমে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ছেলে মারধর করে। খবর পেয়ে তাঁর ভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয়, যিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
কলকাতা পুরসভার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনাটি শহরের বুকে রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাবকে আবারও প্রকাশ্যে এনেছে। একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের প্রভাব আগামী দিনগুলোতে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই মুচিপাড়া এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে মুচিপাড়া থানার পুলিশ।