কানাডায় ফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, কুপিয়ে খুন করা হলো ২২ বছরের ভারতীয় ছাত্রীকে!

প্রবাসে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে গিয়ে আবারও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হলো এক ভারতীয় ছাত্রীকে। এবার কানাডায় এক দুষ্কৃতীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এক গুজরাটি তরুণী। নায়গ্রা জলপ্রপাত সংলগ্ন এলাকায় এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রবাসে ভারতীয় পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তদন্ত ও ঘটনার বিবরণ
নিহত ছাত্রীর নাম বিধি কল্পেশভাই মেঘানি। তিনি গুজরাটের আনন্দ জেলার বাসিন্দা ছিলেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে গত চার বছর ধরে তিনি কানাডায় বসবাস করছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচ চালানোর জন্য তিনি স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থায় পার্ট-টাইম কাজও করতেন। কানাডা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মে তাঁর ওপর এই আচমকা ও ভয়ংকর হামলা চালানো হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই তরুণীকে খুন করা হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ একটি খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করলেও অভিযুক্ত দুষ্কৃতী এখনও অধরা রয়েছে। বিধির অকাল মৃত্যুর খবর গুজরাটে তাঁর দেশের বাড়িতে পৌঁছানো মাত্রই পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উদ্বেগজনক ট্রেন্ড ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় পড়ুয়া এবং চাকুরিজীবীদের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র দু’দিন আগেই আমেরিকার ভার্জিনিয়া শহরের একটি সুপারমার্কেটে এক গুজরাটি মহিলাকে গুলি করে খুন করার ঘটনা সামনে এসেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক ধরনের বিদ্বেষমূলক মনোভাব এবং ঘৃণার রাজনীতিই এই ধরনের অপরাধের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে বিদেশের মাটিতে ভারতীয়দের নিরাপত্তা বড়সড় সংকটের মুখে পড়েছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে উচ্চশিক্ষার জন্য বা কাজের সূত্রে ভারতীয়দের বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে এক ধরনের ভীতি এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।