জাহাঙ্গিরের পর ইস্রাফিল গ্রেফতার, এবার কি পুলিশের টার্গেটে ‘পুষ্পা’?

জাহাঙ্গিরের পর ইস্রাফিল গ্রেফতার, এবার কি পুলিশের টার্গেটে ‘পুষ্পা’?

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। একের পর এক দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে এবার পুলিশের জালে জড়িয়ে পড়ছেন স্থানীয় তৃণমূলের দাপুটে নেতারা। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই শুরু হয়েছে এই জোরদার ধরপাকড়। বুধবার গভীর রাতে ফলতা থানার হাসিমনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বঙ্গনগর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান তথা এলাকা-প্রধান ইস্রাফিল চকদারকে। তিনি এই অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ধৃত নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর, ভয় দেখানো এবং ভোটদানে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

তীব্র গণবিক্ষোভ ও ভোটের ভরাডুবিই পতনের কারণ

তৃণমূল নেতা ইস্রাফিল চকদারের গ্রেপ্তারের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। গত ২৯ এপ্রিল নির্বাচনের পর হাসিম নগর এলাকায় স্থানীয় মহিলারা টানা দুদিন রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ইস্রাফিলের নেতৃত্বেই দুষ্কৃতীরা সাধারণ মানুষকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি এবং দেদার ছাপ্পা ভোট দেওয়া হয়েছে। এমনকি মহিলাদের শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

এই আন্দোলনের জেরেই নির্বাচন কমিশন ফলতার ভোট পুরোপুরি বাতিল করতে বাধ্য হয়। গত ২১ মে পুনর্নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা এবং চতুর্থ স্থানে গিয়ে জামানত জব্দ হয় জাহাঙ্গির খানের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই চরম পরাজয় এবং জনমানসের ক্ষোভই শাসকদলের এই স্থানীয় দুর্গের পতনের প্রধান কারণ।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

ইস্রাফিলের আগে ফলতার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারখানার শ্রমিকদের কাছ থেকে তোলাবাজি ও চক্রান্তের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আইএনটিটিইউসি নেতা নাসির শেখকে। একের পর এক শীর্ষ নেতার এই পরিণতিতে ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ধৃত ইস্রাফিল চকদারকে ডায়মন্ডহারবার এসিজেএম আদালতে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই ধারাবাহিক গ্রেপ্তারের পর এখন রাজনৈতিক মহলে একটাই আলোচনা, এবার কি তবে পুলিশের পরবর্তী লক্ষ্য স্বয়ং জাহাঙ্গির খান ওরফে ফলতার ‘পুষ্পা’? ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর আইনি রক্ষাকবচ তুলে নিয়ে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে। ভোটের আগের দিন থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ থাকা এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তার এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই ধরপাকড়ের জেরে ফলতা অঞ্চলে দীর্ঘদিনের দলবাজি ও তোলাবাজি সিন্ডিকেটের অবসান ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *